৩৬ নিউজ ডেস্ক: ফরিদপুরে উৎপাদিত পেঁয়াজের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে চরম হতাশায় ভুগছেন স্থানীয় কৃষকেরা। উৎপাদন খরচের অর্ধেকেরও কম দামে বাজারে ফসল বিক্রি করতে বাধ্য হওয়ায় অনেকেই ক্ষোভে খাল, পুকুর ও ডোবার পানিতে পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন। সম্প্রতি জেলার সালথা উপজেলার খোয়াড় গ্রামের একটি ডোবার পানিতে কৃষকদের বস্তা বস্তা পেঁয়াজ ফেলে দিতে দেখা যায়। এই দৃশ্যটি এখন জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভুক্তভোগী চাষিদের ভাষ্য, বাজারে বর্তমান পানির দরে পেঁয়াজ বিক্রি করার চেয়ে তা ফেলে দেওয়াই ভালো।
জেলার বিভিন্ন এলাকার চাষিরা জানিয়েছেন, বর্তমানে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক মণ পেঁয়াজ উৎপাদন করতে সার, বীজ, সেচ, ডিজেল, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি মিলিয়ে প্রায় এক হাজার ৬০০ থেকে এক হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। এরপর মৌসুম শেষে ঘরের মাচায় সংরক্ষণ করতে গেলে পাঁচ-ছয় মাস পর ওজনে কমে এক মণ পেঁয়াজ প্রায় ৩০ কেজিতে নেমে আসে। সব মিলিয়ে চাষিদের লোকসান ছাড়া আর কিছুই থাকছে না। দেশের অধিকাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল হলেও কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত না হলে একসময় মানুষ চাষাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শুধু সালথা নয়, জেলার নগরকান্দা, বোয়ালমারী, ভাঙ্গা, সদরপুর ও মধুখালী উপজেলার পেঁয়াজ চাষিরাও একই সংকটে পড়েছেন। উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে দাম না থাকায় অধিকাংশ কৃষক বড় অঙ্কের লোকসান গুনছেন। অনেকেই ব্যাংক বা এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন, এখন সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ফরিদপুর শহরের পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানান, এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং বিভিন্ন জেলা থেকেও প্রচুর পেঁয়াজ বাজারে আসছে। ফলে দাম কমেছে। তবে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় বাজার ব্যবস্থাপনায় দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
সালথা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি মৌসুমে সালথা উপজেলায় পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫০০ হেক্টর। তবে কৃষকদের আগ্রহে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২ হাজার ৫৮৫ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার ১২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতি কেজি পেঁয়াজ উৎপাদনে কৃষকের গড়ে প্রায় ২৪ টাকা খরচ হয়। অর্থাৎ প্রতি মণের উৎপাদন খরচ দাঁড়ায় প্রায় ৯৬০ টাকা। কৃষকদের সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হলেও বাজারমূল্য নির্ধারণ কৃষি বিভাগের হাতে নেই বলে জানান তিনি।
ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান জানান, পেঁয়াজ সংরক্ষণে কৃষকদের সহায়তা দিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় এক হাজার ৪৩০টি এয়ারফ্লো মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। চলতি বছর ইতোমধ্যে ৭০০টি বিতরণ করা হয়েছে এবং আরও প্রায় আড়াই হাজার মেশিন সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন পেঁয়াজের দাম না থাকায় কৃষকদের কষ্টের বিষয়টি স্বীকার করে জানান, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না বলে তারা অবগত হয়েছেন।
টিএইচএ/
