আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা থামিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টাই চলছে কাতারে। কাতারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় কারিগরি আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া এই আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এবং একজন ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সূত্রটি জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনার গতকাল মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সাথে বৈঠক করে এই আলোচনার ভিত্তি তৈরি করেছেন, তবে মূল আলোচনায় তারা সরাসরি অংশ নিচ্ছেন না। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা একসঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসছেন না। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষের মাঝে দূত হিসেবে তথ্য ও প্রস্তাব আদান-প্রদান করছেন।
এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে এই কারিগরি দলগুলোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিভাবাদি।
রয়টার্স বলছে, এই আলোচনা গত ১৭ জুন স্বাক্ষরিত একটি ১৪-দফা অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ওপর ভিত্তি করে হচ্ছে, যার উদ্দেশ্য ছিল ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ বন্ধ করা ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তির জন্য ৬০ দিনের আলোচনার ব্যবস্থা করা।
তবে, সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান প্রকাশ্যে বিতর্কে জড়িয়েছে, যার ফলে গত সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা হয়েছে।
বুধবার দুজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সূত্র জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর তার নিয়ন্ত্রণ এবং উপসাগরে প্রবেশ ও প্রস্থানকারী জাহাজের ওপর শুল্ক আরোপের সক্ষমতার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, প্রয়োজনে বলপ্রয়োগ করেও তা করতে হবে।
সূত্র জানায়, দোহায় অন্তত তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হয়েছে। আলোচনাগুলো প্রধান আলোচক ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার অধিবেশন হিসেবে সাজানো হয়েছে।
ইরান প্রকাশ্যে জানিয়েছে, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিটির ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো এবং ইরানের জব্দকৃত ৬০০ কোটি ডলারের সম্পদ ছাড়িয়ে আনা তাদের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।
ইরানের এক কর্মকর্তা বলেন, আলোচনাগুলো মঙ্গলবার রাতে শুরু হয়ে বুধবারও চলছিল, যেখানে হরমুজ প্রণালি এবং জব্দকৃত তহবিল ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক ও কূটনৈতিক ইস্যুর মতো বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
আলোচনা সম্পর্কে অবগত সূত্রটি জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের মূল লক্ষ্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক ও তেলবাহী জাহাজগুলোর অবাধ ও নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা।
কূটনীতিকদের মতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর এই কারিগরি আলোচনাটিকে মূলত ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’ বা ক্ষতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা সফল হলে মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।
সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা
