চট্টগ্রাম প্রতিনিধি :: চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে ফিশিং ট্রলারে ভয়াবহ আগুন লাগার ঘটনায় দগ্ধদের দুজন মারা গেছেন। মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তারা মারা যান। নিহতরা হলেন- এফভি দেশ জাহাজটির দুই গ্রিজার শাহআলম (৪৫) ও রুবেল (৩২)। শাহ আলমের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়। রুবেলের বাড়ি পটুয়াখালীর গলাচিপা এলাকায়।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এফভি দেশ-এর ক্যাপ্টেন জুবায়ের মাহমুদ। তিনি জানান, মঙ্গলবার বিকাল ৫টার দিকে চমেক হাসপাতাল থেকে গুরুতর দ্বগ্ধ তিনজনকে নিয়ে তিনটি অ্যাম্বুলেন্স ঢাকায় রওয়ানা হয়। কুমিল্লা পৌঁছানোর পরে শাহআলম ও রুবেল মারা যান।
পরে স্বজনদের কাছে তাদের মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া ট্রলারের ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আশিকুজ্জামান তামিমের (২২) অবস্থাও সংকাটপন্ন। ঘটনায় ট্রলারটির আনুমানিক ৭০ লাখ টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ব্যাপারে সদরঘাট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। হতাহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে বলে জানান জুবায়ের মাহমুদ।
সূত্র জানায়, গত ১১ জুন মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর ২৯ জুন সোমবার মাছ নিয়ে সদরঘাটে ফিরে আসে এফভি দেশ। মাছ নামানোর কাজ চলছিল। ওখানেই হঠাৎ মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে জাহাজটিতে আগুন লাগে। এই আগুনের আঁচ গিয়ে পড়ে পাশের এফবি ডিজনিতেও।
এতে ছয়জন দগ্ধ হয়। জাহাজটির অ্যাসিস্ট্যান্ট বস ম্যান আমিনুল ইসলাম স্থানীয়দের সহায়তায় দগ্ধদের উদ্ধার করে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তিনজনকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকায়।
তারা হলেন দেশ জাহাজের ইঞ্জিন কক্ষে দায়িত্বরত ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আশিকুজ্জামান তামিম, গ্রিজার রুবেল ও শাহ আলম। তিনজনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। পাশে থাকা জাহাজ ডিজনির তিনজনের হালকা আঁচ লেগেছে। তারা হলেন উইন্স অপারেটর নিজাম উদ্দিন (৩৫), ডুবুরি রাসেল (৩০) ও ছিদ্দিক আহমেদ (৫০)।
চমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এস খালেদ জানান, ঢাকায় নিয়ে যাওয়া তিনজনের অবস্থাই সংকটাপন্ন ছিল। তিনজনের শরীরের শতভাগ পুড়ে গেছে। আমরা তাদের এখানে আইসিইউতে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু জাহাজ কর্তৃপক্ষ নিয়ে গেছে। বাকি তিনজনের হালকা আঁচ লেগেছে। সামান্য শ্বাসনালীতে লেগেছে। ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে তাদের।
চিকিৎসাধীন নিজাম উদ্দিনের মুখে সামান্য পুড়েছে। তিনি জানান, হঠাৎ বিকট শব্দ পান পাশের জাহাজের ইঞ্জিন রুম থেকে। এরপর আগুনের আঁচ এসে তিনজনের গায়ে লাগে।
