পবিত্র মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শেখ আবদুর রহমান আল সুদাইস ওমরাহযাত্রী ও হাজিদের প্রতি এক বিশেষ সতর্কবার্তা কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন, জামাতে নামাজ আদায়ের সময় ইমামের পূর্ণ সালাম ফেরানোর মাধ্যমে নামাজ শেষ করার আগেই হাজরে আসওয়াদ স্পর্শ বা চুম্বনের জন্য দৌড় দিলে সংশ্লিষ্ট মুসল্লির নামাজ বাতিল বা ভঙ্গ হয়ে যাবে। সম্প্রতি কাবা শরিফের ভেতরে এক দ্বীনি দর্সে (ধর্মীয় আলোচনায়) মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক এই প্রধান এই গুরুত্বপূর্ণ ফতোয়া ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
গ্র্যান্ড মসজিদে প্রতিনিয়ত ঘটে যাওয়া একটি মারাত্মক ভুলের কথা উল্লেখ করে শেখ সুদাইস বলেন, অনেক সময় দেখা যায় ইমাম নামাজ শেষ করার জন্য প্রথম সালাম বা শব্দ উচ্চারণ শুরু করামাত্রই কিছু মুসল্লি হাজরে আসওয়াদ কিংবা মুলতাজামের দিকে ছুটে যাওয়ার জন্য তাড়াহুড়ো শুরু করেন। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইমামের সালামের বাক্য সম্পূর্ণ শেষ হওয়ার আগেই মুসল্লিরা নিজেদের স্থান ত্যাগ করেন। ইসলামের নিয়ম অনুযায়ী, জামাতে নামাজ পড়ার সময় ইমামকে পুরোপুরি অনুসরণ করা ওয়াজিব। ইমামের আগে কোনো রুকন বা কাজ করা কিংবা তার সমাপ্তির আগেই নামাজ ভাঙার মতো আচরণ করা শরিয়তের পরিপন্থী। ইমামকে এভাবে অতিক্রম করার চেষ্টা বা তাড়াহুড়ো করার কারণে ওই ব্যক্তির সালাত সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়।
পবিত্র কাবার এই ইমাম আরও বলেন, হাজরে আসওয়াদ চুম্বন কিংবা মুলতাজামে দোয়া করা নিঃসন্দেহে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ইবাদত, তবে তা কোনোভাবেই ফরজ নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নয়। একটি নফল বা মুস্তাহাব আমলের জন্য নিজের ফরজ নামাজকে ঝুঁকিতে ফেলা কোনো বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে না।
মুসল্লিদের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল ও তাড়াহুড়ো কমিয়ে আনতে মসজিদুল হারামের ইমামদের প্রতিও বিশেষ সাংগঠনিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইমামদের বলা হয়েছে, তারা যেন নামাজের শেষের সালাম ফেরানোর সময় অযথা দীর্ঘায়িত বা দীর্ঘ বিরতি না নেন। কারণ ইমামের দীর্ঘ বিরতির কারণে অনেক সময় মুসল্লিরা ভুলবশত নামাজ শেষ ভেবে আগেই নড়াচড়া শুরু করে দেন এবং অজান্তেই ইমামের আগে চলে যান।
তথ্যসূত্র: দ্যা ইসলামিক ইনফরমেশন
টিএইচএ/
