তুমি যদি চাও
জমে থাকা মেঘ বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ে
বৈরী বাতাসে ভাসিয়ে দিলাম নাও
উত্তাল সমুদ্রের পারাপার হবে সহজ
হে প্রিয় বন্ধু আমার তুমি যদি চাও।
পাথুরে পথও হবে সুকোমল ঘাস,
যদি পাশে থেকে একটু সাহস দাও,
অজেয়কে জয় করা অসম্ভব নয়,
হে প্রিয় বন্ধু আমার তুমি যদি চাও।
কুয়াশা মাখানো যত আঁধার রাতে,
আলো দিয়ে যদি কাছে ডেকে নাও
দুঃখের সীমানা ঘুচে যাবে একদিন,
হে প্রিয় বন্ধু আমার তুমি যদি চাও।
মরুর বুকে ফোটাতে পারো গোলাপ,
বেদনার মরচে ধরা খাঁচা সেরে দাও,
হৃদয় আঙিনায় আসে ফুলেল বসন্ত,
হে প্রিয় বন্ধু আমার তুমি যদি চাও।
ভুলে থাকি
শত কাজের ব্যস্ততা
হয় যে শুরু প্রাতে।
মৃত্যুকে ভুলে থাকি
সকাল সন্ধ্যা রাতে।
কত রকম মানুষ ভরা
এই পৃথিবীর বুকে
কেউ আছে মহাসুখে
কেউ বা ভীষণ দুখে।
মিছে মায়ায় অন্ধ হয়ে
ঘুরছে অবিরত,
হৃদয়ে পাহাড় সমান
আশা শত শত।
দিন ফুরোলে ভাঙবে মেলা
আসবে আঁধার নেমে,
সব আয়োজন ধুলোতেই
যাবে সে দিন থেমে।
নিবেদন
দাঁড়াতে হয় না যেন আর মানুষের দুয়ারে,
স্বস্তি শান্তি চাই শুধু তোমারই দরবারে।
দুনিয়ার বুকে প্রভু, কতশত আয়োজন,
তবু এই মনে শুধু তোমাকেই প্রয়োজন।
মানুষের কাছে গেলে ভুল হয় বারবার
আঁধারে হারায় পথ, ভুলে ভরা সংসার।
তুমি ছাড়া এই বুকে কেউ নেই সান্ত্বনা,
তুমিই তো বোঝো প্রিয় হৃদয়ের যন্ত্রণা।
ভুলচুকে ভরা এই জীবনের সারাবেলা,
মানুষের হাত ধরে, পাই শুধু অবহেলা।
দয়া করো হে রহমান, কাছে এসো তুমি
তোমার করুণা ছাড়া সবই মরুভূমি।
এ মস্তক নত হোক শুধু পবিত্র চরণে,
শান্তি রয়েছে যে শুধু তোমারই স্মরণে।
ক্ষমা করো দয়াময় ধন্য করো জীবন,
তোমারি প্রেমের মাঝে জুড়াক এ মন।
তাঁর কাছে দাঁড়ানো
যা চাও তাই পাবে দু’দিন আগে পরে
লুকানো আছে সেসব প্রতিটি ঘরে।
দিতে ভালো লাগে যে তাঁর দিনরাত
প্রশস্ত পরিসরে দয়ামাখা তাঁর হাত।
ধৈর্য হারায়ে যদি পথটাই ভুলে যাও,
আঁধারে হারিয়ে শুধু নিজেকেই পাও;
ভেঙে পড়ো না কভু হতাশার ঝড়ে,
আলো ঠিকই আসবে তোমার অন্তরে।
খোলা রেখো মনখানি বিশ্বাসের টানে,
সব উত্তর লুকিয়ে যে জীবনের গানে।
চাওয়ার চেয়ে বেশি দিতে পারেন যিনি,
সৃষ্টির প্রতি কণা ভালো চেনেন তিনি।
অঞ্জলি ভরে নাও সেই আশিস সুধা,
মিটে যাবে জীবনের সব তৃষ্ণা-ক্ষুধা।
দয়াময় হাতখানি আছে তাঁর বাড়ানো
শুধু স্বচ্ছ হৃদয়ে তাঁর কাছে দাঁড়ানো।
আমি আর নেই
জানতে চাইলে কোনো পরিচিতের কাছে
উত্তর আসে সে তো কবেই মারা গেছে।
একদিন খবর হবে যে এই আমি আর নেই
ক্ষণিকের নিয়মটাই হবে প্রকাশ সেই।
স্মৃতির পাতায় ধুলো জমবে অল্প অল্প করে,
কিছুদিন হয়তো কেউ কাঁদবে মনে করে।
তারপর কেটে যাবে দিন, সবকিছু ভুলে,
নতুন পথিক আসবে আবার এই জীবনের কূলে।
জগৎ যেমন চলছে তেমন চলবে আপন মনে,
আমার গল্প ফুরাবে কোনো এক শ্রাবণ-ক্ষণে।
মিছেই তবে এত মায়া, মিছেই এত অহংকার,
ক্ষণিকের এই নাট্যমঞ্চে কে যে আপন কার!
তোমার নাম
তোমার স্মরণে কাটুক দিন রাত
যতই চাই বরাদ্দ সাড়ে তিন হাত।
ভুলেও যেন না ভুলি তোমার নাম
তুমিহীন প্রাণের কী আছে দাম।
তোমার নামেই কাটুক প্রহর,
তোমার নামেই জাগুক গান।
তুমি ছাড়া এই ভুবনে আমার
নেই যে কোনোই সম্মান।
এ অধমের সারা সত্তায় তুমি,
হৃদয় জুড়ে তোমার বসবাস,
তোমার রহম আগলে রেখে,
কটুক আমার বারো মাস।
যাত্রী আমি তো বড়ই একা
জীবন নদীর শেষ খেয়ায়,
তুমি ছাড়া এই ব্যাকুল প্রাণ,
কোনো দাম কি আর পায়?
শুকরিয়া গান
এটা নাই ওটা নাই কত কিছু নাই যে
বলি না কখনো কত কিছু পাই যে।
হাত পা শক্তি যে কত আছে শরীরে
মন মগজ নিয়ে কত বড়াই করিরে।
চোখ মেলে দেখি এ পৃথিবীর আলো,
বাসে যে আমারে কতজনে ভালো।
মাথার উপরে আছে সুনীল আকাশ,
বুকের গভীরে বয় শীতল বাতাস।
দু’টি পায়ে হেঁটে চলি চেনা এই পথে,
স্বপ্ন ভাসিয়ে দিই ভাবনার রথে।
নদীতে পানি আছে, গাছে রাঙা ফুল,
সব পেয়ে তবু কেন করি এত ভুল?
চাহিদার শেষ নেই, লোভ শুধু বাড়ে,
সুখের সন্ধানে চলা কত অভিসারে।
ক্ষুদ্র এ জীবন ভরে পেয়েছি যা দান,
তার জন্য গেয়ে যাই শুকরিয়া গান।
