আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতভিত্তিক ভয়ংকর একাধিক সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে পরিচালিত আন্তর্জাতিক যৌথ অভিযানে ২৪ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেন যে, এই মেগা অপারেশনের মাধ্যমে ২০২৩ সালে কানাডায় আলোচিত শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জর হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্তদেরও জালে তোলা সম্ভব হয়েছে।
আমেরিকা, কানাডা ও ইউরোপের একাধিক আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘদিনের তদন্ত ও যৌথ সমন্বয়ে এই বিশ্বব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালানো হয়। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আন্তর্জাতিক সিন্ডিকেটের সদস্যদের বিরুদ্ধে চুক্তিভিত্তিক রাজকীয় হত্যাকাণ্ড, চাঁদাবাজি, প্রকাশ্য গুলি ও হামলা, জোরপূর্বক মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় এবং সীমান্তজুড়ে আন্তর্জাতিক ড্রাগ ট্রাফিকের অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম সহকারী অ্যাটর্নি বিল এসায়লি বলেন, “যেসব আন্তঃদেশীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক মানুষের মনে ভয় ছড়িয়ে, বিষাক্ত মাদক ও সহিংসতা দিয়ে সমাজের ভারসাম্য নষ্ট করছে, তাদের বিরুদ্ধে ফেডারেল আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” মঙ্গলবার উন্মোচিত অভিযোগপত্রে বলা হয়, অন্তত দুজন গ্যাংস্টার ভারতের অত্যন্ত সুরক্ষিত কারাগারে বন্দী থেকেও প্রযুক্তির সহায়তায় বিশ্বজুড়ে নিজেদের বিশাল অপরাধ সাম্রাজ্য পরিচালনা করে আসছিল।
ফলে চার্জশিট অনুযায়ী, ভারতের পাঞ্জাবের ৩৩ বছর বয়সী কারাবন্দী গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোই জেলখানায় বসেই খালিস্তানপন্থী প্রখ্যাত শিখ নেতা হরদীপ সিং নিজ্জরকে হত্যার চূড়ান্ত নির্দেশ দিয়েছিল। এছাড়া বিষ্ণোইয়ের একসময়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও বর্তমান প্রতিদ্বন্দ্বী ৩৮ বছর বয়সী কারাবন্দী জগ্গু ভগবানপুরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে ভগবানপুরিয়ার এক হাজারের বেশি সশস্ত্র অনুসারী রয়েছে। একই যৌথ অভিযানে কানাডার ভ্যাঙ্কুভার থেকে রবিন্দর সিং ধান্ডা নামের আন্তর্জাতিক শীর্ষ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যে প্রতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে শত শত কেজি কোকেন ও মেথামফেটামিন পাচার করত।
এফবিআইয়ের লস অ্যাঞ্জেলেস দপ্তরের দায়িত্বে থাকা সহকারী পরিচালক প্যাট্রিক গ্র্যান্ডি এক বিবৃতিতে জানান, এই ঐতিহাসিক সমন্বিত অভিযান আন্তর্জাতিক তিন বৃহৎ অপরাধী চক্রের মেরুদণ্ড ভেঙে দিয়েছে, যারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে খুনে কর্মকাণ্ড ও মাদকের ভয়াবহতা ছড়িয়ে নিরীহ পরিবারগুলোকে প্রতিনিয়ত আতঙ্কে রেখেছিল।
টিএইচএ/
