আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা এবং বিমান হামলার মধ্যেও থামেনি ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান ও শোকযাত্রা।
বুধবার (৮ জুলাই) খামেনির কফিন প্রতিবেশী ইরাকের পবিত্র নগরী নাজাফে এসে পৌঁছালে প্রিয় নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো শোকাহত মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন।
মার্কিন সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) মঙ্গলবার রাতে চার ঘণ্টার অভিযানে ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর দাবি করার পরই এই সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালীতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানি হামলার জবাব দিতেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এর পাল্টায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) বাহরাইন ও কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে অন্তত ৮৫টি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়।
সংঘাতময় পরিস্থিতিতেও খামেনির নির্ধারিত আন্তর্জাতিক শোকযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তেহরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন খামেনি ও তার পরিবারের কয়েকজন সদস্য। এ উপলক্ষে বুধবার ইরাক সরকার দেশজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। সকালে নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং নিহত নেতার জ্যেষ্ঠ পুত্র মোস্তফা হোসেইনি খামেনির উপস্থিতিতে ইরাকি প্রতিনিধি দল কফিন গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে কফিনটি হজরত আলী (রা.)-এর মাজারে নিয়ে যাওয়া হয়।
নাজাফের কর্মসূচির পর কফিনটি ৬০ কিলোমিটার উত্তরে কারবালায় ইমাম হোসেইন (রা.) ও আল-আব্বাসের মাজারে শোকযাত্রার জন্য নেওয়া হচ্ছে। শোকানুষ্ঠান শেষে খামেনির কফিন পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে এবং আগামী বৃহস্পতিবার উত্তর-পূর্ব ইরানের নিজ শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে। মার্কিন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও এই বিশাল শোকযাত্রার আয়োজন করে জাতীয় ঐক্য ও শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে ইরান।
টিএইচএ/
