আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক পুরোপুরি বাতিল বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের আংকারায় আয়োজিত ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে করা চুক্তি এখন অতীত এবং এ নিয়ে পুনরায় আলোচনা চালিয়ে যাওয়া স্রেফ সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ভয়াবহ পরিস্থিতির মাঝেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে এই কঠোর মন্তব্য এলো।
ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমি মনে করি ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা স্মারকটি শেষ।” চুক্তি নবায়নের সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ আলোচনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মন্তব্য করেন, দুই পক্ষের আলোচকেরা চাইলে টেবিলে বসে কথা বলতে পারেন, তবে তা কোনো কাজে আসবে না এবং তারা কেবল সময় নষ্ট করছেন। তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে ওয়াশিংটন এখন তেহরানের সাথে কোনো ধরনের কূটনৈতিক সমঝোতায় ফিরতে আগ্রহী নয়, বরং সরাসরি সামরিক কৌশল বাস্তবায়নেই বেশি মনোযোগী।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাত। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই সংবেদনশীল নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জন্য তেহরানকে দায়ী করে হরমুজ প্রণালির আশপাশে ইরানের ৮০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আমেরিকার এই নজিরবিহীন আগ্রাসনের কড়া জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক অভিযানের পাল্টা জবাবে চুপ থাকেনি ইরানও। তেহরানের পক্ষ থেকে বহুগুণ শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়েছে। মার্কিন হামলার জবাবে বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ৮৫টি সামরিক স্থাপনায় একযোগে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরানি সামরিক বাহিনী। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এখন এক ভয়াবহ ও সর্বাত্মক যুদ্ধের কালো ছায়া নেমে এসেছে। আলজাজিরার প্রতিবেদন থেকে এই সামরিক সংঘাত ও ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
টিএইচএ/
