আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ থেকে করাচিমুখী একটি বোয়িং ৭৩৭-৪০০ কার্গো বিমান আরব সাগরের ওপর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছে। বিমানটিতে পাঁচজন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ নেভিগেশন ব্যবস্থায় ত্রুটির কথা জানানোর পর পরই বিমানটির সাথে ট্রাফিক কন্ট্রোলের সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের সন্ধানে আরব সাগরে সমন্বিত উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে পাকিস্তানের বিমান ও নৌবাহিনী।
পাকিস্তান এয়ারপোর্টস অথরিটি সূত্রে জানা গেছে, কেটু এয়ারওয়েজ পরিচালিত বিমানটি মঙ্গলবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ১৮ মিনিটে (১৬:১৮ জিএমটি) এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সাথে শেষবারের মতো যোগাযোগ করে। বৈশ্বিক তথ্য ট্র্যাকিং সংস্থা ‘ফ্লাইটরাডার২৪’-এর তথ্যানুযায়ী, যান্ত্রিক ত্রুটির বার্তা দেওয়ার পর মাত্র এক মিনিটের মধ্যে বিমানটি প্রায় পাঁচ হাজার ফুট নিচে নেমে যায়। এর পরপরই আবার দ্রুত ছ ছয় হাজার ফুট ওপরে উঠে হঠাৎ উলম্বভাবে নিচে পতিত হতে শুরু করে। প্রায় ৩৬,৫৫০ ফুট উচ্চতা থেকে বিমানটি প্রতি মিনিটে ২২,৪০০ ফুট গতিতে নিচে নামতে থাকে। করাচি উপকূল থেকে প্রায় ১৫৫ নটিক্যাল মাইল (২৮৭ কিলোমিটার) পশ্চিমে ৩৩৫ মিটার উচ্চতায় বিমানটির অবস্থান রেকর্ড করার পরই তার সংযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
ঘটনার পর পরই করাচিনির্ভর বেসরকারি এয়ারলাইন্স কেটু এয়ারওয়েজের একমাত্র এই বোয়িং বিমানটির সন্ধানে বড় ধরনের তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আল জাজিরা জানায়, নিরাপত্তা বাহিনীর তথ্যমতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ, একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং দুটি নৌবাহিনীর টহল উড়োজাহাজ একযোগে অনুসন্ধান চালাচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত বিমানের কোনো ধ্বংসাবশেষ বা নিখোঁজ ক্রুদের হদিস পাওয়া যায়নি। এক বিবৃতিতে কেটু এয়ারওয়েজ তাদের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা জানিয়ে অনুসন্ধান কাজে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে।
এ ঘটনার সার্বিক পরিস্থিতিতে গভীর শোক ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি নিখোঁজ ক্রু সদস্যদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। ১৯৯৯ সালে যাত্রী পরিবহনের জন্য প্রথম তৈরি হওয়া এই বোয়িং বিমানটি বিভিন্ন সময় একাধিক আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সে সেবা দেওয়ার পর ২০১২ সালে কার্গো বিমানে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এটি কেটু এয়ারওয়েজের বহরে যুক্ত হয়েছিল। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে, তা ২০২০ সালের মে মাসে ৯৭ জন নিহতের পর পাকিস্তানে ঘটে যাওয়া অন্যতম বড় বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তথ্যসূত্র: আল জাজিরা
টিএইচএ/
