দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণজনিত পাহাড়ধস ও ভয়াবহ বন্যায় এ পর্যন্ত ৩০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। নিহতদের মধ্যে কক্সবাজারে ১৯ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন, বান্দরবানে ৫ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ১ জন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ৩-শ বিধিতে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে মন্ত্রী দুর্যোগের সার্বিক চিত্র ও সরকারি উদ্ধার তৎপরতা তুলে ধরেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
বিবৃতিতে ত্রাণমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা মিলিয়ে মোট ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ৮ হাজার ৩৪০ জন, খাগড়াছড়িতে ১ হাজার ৭৫৫ জন, বান্দরবানে ২ হাজার ১৭৩ জন এবং রাঙ্গামাটিতে ১২৬ জনসহ বহু দুর্গত মানুষ আশ্রয়ে অবস্থান করছেন।
ত্রাণ বিতরণ ও সহায়তার বিবরণ দিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, “গত ৭ জুলাই দুর্গত পাঁচ জেলায় প্রাথমিকভাবে ১০ লাখ টাকা করে নগদ (জিআর) এবং ২০০ মেট্রিক টন করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় আজ চট্টগ্রামে পুনরায় ২৫ লাখ, কক্সবাজারে ২০ লাখ এবং রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে ১০ লাখ টাকা করে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামে ৩০০ মেট্রিক টন, কক্সবাজারে ২৫০ মেট্রিক টন এবং তিন পার্বত্য জেলায় ২০০ মেট্রিক টন করে চাল পুনরায় দেওয়া হলো।”
মন্ত্রী আরো যুক্ত করেন, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও প্রতিটি দুর্গত জেলায় পৃথকভাবে ২০ লাখ টাকা করে বিশেষ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সরকারপ্রধান সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি তদারকি করছেন এবং দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব মাঠপর্যায়ে অবস্থান করে ত্রাণ কার্যক্রম সমন্বয় করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ের ঢালে বসবাসকারীদের খাসজমি ও সরকারি জমিতে পুনর্বাসন করতে সরকার সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি ঘোষণা দেন।
একই বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় ইতোমধ্যেই ১৩শ মেট্রিক টন চাল সহায়তা পাঠানো হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় সার্বিক উদ্ধারকাজ ও পর্যাপ্ত ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার রয়েছে।
টিএইচএ/
