বিবাহিত নারীর আর্থিক অধিকার ও স্বার্থ সুরক্ষায় বিয়ের তারিখ থেকে যৌক্তিক সময় পর পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্যায়ন, নির্ধারণ ও আদায়ের প্রক্রিয়াসংবলিত নীতিমালা প্রণয়ন কেন করা হবে না—এ মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (১৩ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ রুল দেন।
রুলে ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশের ১০ ধারা অনুযায়ী, বিয়ের তারিখ থেকে যৌক্তিক সময় পর পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্যায়ন, নির্ধারণ, আদায়ের পদ্ধতি ও প্রক্রিয়াবিষয়ক নীতিমালা কেন প্রণয়ন ও জারি করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বিবাহিত নারীর আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পরিশোধযোগ্য দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের জন্য একটি বিস্তারিত নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে গত ৫ জুলাই রিটটি দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ফাহমিদা আখতার। আদালতে তিনি নিজেই রিটের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল খাঁন জিয়াউর রহমান ও মাহফুজ বিন ইউসুফ।
শুনানি শেষে আইনজীবী ফাহমিদা আখতার বলেন, বিয়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে দেনমোহরের একটি অংশ তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা হলেও বাকি অংশ পরিশোধের জন্য পরে নির্ধারণ করা হয়। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেই বিলম্বিত দেনমোহর দীর্ঘ সময় ধরে পরিশোধ করা হয় না এবং বছরের পর বছর আগের নির্ধারিত অঙ্কই বহাল থাকে।
তার মতে, বিলম্বিত দেনমোহরের মূল্যায়ন ও আদায়ের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়ন করা হলে বিবাহিত নারীদের আর্থিক অধিকার ও সুরক্ষা আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ উদ্দেশ্যেই মুসলিম শরিয়াহ আইন অনুসারে বিলম্বিত দেনমোহর পরিশোধের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে রিট আবেদন করা হয়েছে।
