ইরানি বিমান ঠেকাতে ইয়েমেনের সানা বিমানবন্দরে হামলা

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: একটি ইরানি বিমানকে অবতরণে বাধা দিতে ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি-সমর্থিত সরকার।

ইয়েমেনের রাজধানী সানা বর্তমানে ইরান-পন্থী হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে এবং দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর এদেনকে রাজধানী করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকার।

বিজ্ঞাপন
banner

সোমবার তাদের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একটি ইরানি বিমানকে সানায় অবতরণ করা থেকে রুখতেই বিমানবন্দরের রানওয়ে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সরকারের অভিযোগ, হুথিরা ইয়েমেনের নিজস্ব বিমানকে বিমানবন্দরে নামতে না দিয়ে জোরপূর্বক ইরানি বিমানকে আকাশসীমা লঙ্ঘন করার সুযোগ দিচ্ছিল, যার জবাবে বিমানবন্দেরের রানওয়েটি উড়িয়ে দেওয়া হয়।

এর আগে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বেসামরিক নাগরিক, শ্রমিক, কূটনৈতিক মিশন এবং মানবিক সংস্থাগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অবিলম্বে বিমানবন্দর ও এর আশপাশের এলাকা খালি করার নির্দেশ দিয়েছিল।

এদিকে এই হামলার জন্য সরাসরি সৌদি আরবকে দায়ী করে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হুথিরা।

হুথি বিদ্রোহীদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেছেন, সৌদি আরব সরাসরি সানা বিমানবন্দরে এই বিমান হামলাটি পরিচালনা করেছে। এই হামলার মাধ্যমে এই অঞ্চলে চলমান যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেল এবং এর পরিণতি সৌদি আরবকে ভোগ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ওপর চালানো এই আগ্রাসনের উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে এবং এটি কোনোভাবেই শাস্তিহীন পার পাবে না।’

এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

এরআগে চলতি মাসের শুরুতে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি অভিযোগ করে, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমান ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে ইরানের তেহরান থেকে আসা একটি বেসামরিক যাত্রীবাহী বিমানকে সানা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তবে হুথি যোদ্ধারা সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।

হুথি গণমাধ্যম জানিয়েছিল, ২০০ জনেরও বেশি আটকে পড়া, আহত ও অসুস্থ ইয়েমেনি নাগরিককে বহনকারী ইরানি বেসামরিক বিমানটি সফলভাবে অবতরণ করেছে এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশগ্রহণকারী হুথি প্রতিনিধিদলকে নিয়ে তেহরানের দিকে ফিরে যায়।

ওই সময়ও সৌদি আরবের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থল ও সামুদ্রিক স্থাপনায় কঠোর হামলার হুমকি দিয়েছিলেন হুথি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে জাতিসংঘ-ঘোষিত যুদ্ধবিরতির পর থেকে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে সরাসরি সংঘাত অনেকটাই বন্ধ ছিল এবং একটি স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে আলোচনা চলছিল। তবে ইরানের বিমান অবতরণকে কেন্দ্র করে এই নতুন উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আবার নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

সূত্র: আলজাজিরা

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222