আফগানিস্তানের প্রতি পাকিস্তান সরকারের নীতি ও কৌশলের কড়া সমালোচনা করেছেন দেশটির জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের (জেইউআই-এফ) প্রধান মাওলানা ফজলুর রহমান। দ্বিপাক্ষিক যেকোনো সংঘাত কিংবা মতবিরোধ বলপ্রয়োগের মাধ্যমে সমাধান না করে কূটনীতি ও রাজনৈতিক আলোচনার টেবিলে নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পাকিস্তানের পাঞ্জাবে আয়োজিত এক মহাসমাবেশে ভাষণ দানকালে ফজলুর রহমান বলেন, সব বিরোধ শক্তির ব্যবহারে নিষ্পত্তি করা সম্ভব নয়। এ সময় তিনি ইসলামাবাদকে চরমপন্থার পথ পরিহার করে কাবুল সরকারের সাথে রাজনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার অনুরোধ জানান।
জেইউআই-এফ প্রধান বলেন, আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে যদি সরকারের কোনো অভিযোগ থাকে, তবে সেখানে তারও বেশ কিছু অভিযোগ থাকতে পারে। কিন্তু শক্তির ব্যবহার কোনো সমাধান এনে দিতে পারে না। এসব সংবেদনশীল বিষয় কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমেই সুরাহা করতে হবে।
বক্তব্যে ফজলুর রহমান পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ ভঙ্গুর অবস্থার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি জানান, বর্তমানে দেশ চরম অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার হুমকিতে জর্জরিত। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টির বদলে ইসলামাবাদের উচিত অভ্যন্তরীণ এসব সংকট মোকাবিলায় নজর দেওয়া।
বিষয়টি নিয়ে আফগানিস্তানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম টোলোনিউজকে পাকিস্তানের সাবেক আফগান কূটনীতিক আমির মোহাম্মদ গ্রান বলেন, কেবল সাধারণ জনগণ নয়, বরং পাকিস্তানের সুশীল সমাজ, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ধর্মীয় নেতারাও সরকারের এই আগ্রাসী আফগান নীতি ও সাম্প্রতিক হামলার বিরোধিতা করছেন।
এদিকে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত সংঘাত নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলো। আফগানিস্তানে নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের (এনআরসি) কান্ট্রি ডিরেক্টর জাকোপো কারিডি জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহে পূর্ব আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তে সংঘাতের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তিনি যেকোনো পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মানবতাবাদী আইন মেনে চলা এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষায় সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, বিগত কয়েক মাসে সীমান্ত সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি হামলা এবং জোরপূর্বক শরণার্থী প্রত্যাবাসন ইস্যুকে কেন্দ্র করে কাবুল ও ইসলামাবাদের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে।
টিএইচএ/
