আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানের সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজে নিষেধ বিষয়ক মন্ত্রী মোহাম্মদ খালিদ হানাফি হেরাত প্রদেশে আলেম, গোত্রীয় প্রবীণ এবং গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক সভায় শরিয়াহ বাস্তবায়ন, সমাজ সংস্কারে আলেমদের ভূমিকা এবং ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ আইন সম্পর্কে বক্তব্য দেন।
তিনি বলেন, ইসলামী ব্যবস্থার সংজ্ঞা হলো শরিয়াহর পূর্ণ বাস্তবায়ন, মজলুমের পক্ষে অবস্থান, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের ইসলামী শিক্ষার ভিত্তিতে জীবনযাপন।
হানাফি বলেন, ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ আইন কোনো মন্ত্রণালয় বা সরকারের আইন নয়, বরং “আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আইন”।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এ আইন বাস্তবায়নের দায়িত্ব শুধু মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নয়, বরং প্রত্যেক মুমিনের।
তিনি সমাজ সংস্কারে আলেমদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, মিম্বর দাওয়াত ও সংস্কারের স্থান এবং আলেমদের দায়িত্ব হলো সেখান থেকে সমাজের সব শ্রেণিকে সত্য ও সংশোধনের পথে আহ্বান করা।
নারীদের অধিকার প্রসঙ্গে হানাফি দাবি করেন, অতীতে বিদেশি দেশগুলোর সমর্থনে যারা জনগণ ও নারীদের ওপর জুলুম করেছে, তারাই এখন নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলছে। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যবস্থা শরিয়াহর কাঠামোর মধ্যে নারীদের অধিকার ও মর্যাদার সর্বোত্তম রক্ষক।
তিনি আরও দাবি করেন, কিছু ব্যক্তি গুজব ছড়িয়ে ও জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে আলেম, গোত্রীয় প্রবীণ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলদের জনগণের কাছে বাস্তবতা তুলে ধরার আহ্বান জানান।
গণমাধ্যমের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলো প্রথমে ‘আমর বিল মারুফ ও নাহি আনিল মুনকার’ আইন নিজেদের কার্যক্রমে অনুসরণ করা এবং পরে তা জনগণের কাছে তুলে ধরা। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে গণমাধ্যম ধর্মীয় বার্তা প্রচারে মিম্বরের মতো ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি আরও বলেন, আইনটির সব ধারা শরিয়াহর ভিত্তিতে প্রণয়ন করা হয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য নাগরিকদের অধিকার নিশ্চিত করা।
বিদেশি দেশগুলোর সমালোচনার প্রসঙ্গে হানাফি দাবি করেন, যারা এ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের সমালোচনা করছে তারা মূলত ইসলামী বিধানের বিরোধিতা করছে।
এছাড়া হেরাতে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে নারীদের গ্রেপ্তারের যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিকে তিনি “গুজব” বলে উল্লেখ করেন এবং দাবি করেন, এসব অভিযোগ গোয়েন্দা মহলের প্রচারযুদ্ধের অংশ।
