আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: আফগানিস্তানজুড়ে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা শক্তিশালী করার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য মন্ত্রী নূর জালাল জালালি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফ এবং বৈশ্বিক ভ্যাকসিন জোট ‘গাভি’ (GAVI)-এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৈঠকে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ উন্নত করা, নিয়মিত টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি করা এবং দেশটির স্বাস্থ্য খাতে ‘গাভি’র অব্যাহত সহায়তা পর্যালোচনা করার ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়।
ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী নূর জালাল জালালি জানান, হাম ও পোলিওসহ টিকা-প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন রোগ মোকাবেলা করা তাঁদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিশেষ করে দেশের সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর কাছে অত্যাবশ্যকীয় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা চলছে।
বৈঠকে মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, আফগানিস্তানের জাতীয় টিকাদান কৌশল এবং সামগ্রিক জাতীয় স্বাস্থ্য কৌশল প্রণয়নের কাজ বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই কৌশলগুলো মাঠপর্যায়ে সমন্বিতভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খুব শীঘ্রই তা সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের সাথে ভাগ করে নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের যুদ্ধ-সংঘাত, চরম অর্থনৈতিক সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগের কারণে আফগানিস্তানে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। ফলে দেশটির লাখ লাখ শিশু এখনও প্রতিরোধযোগ্য বিভিন্ন মারাত্মক রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো দেশটির ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে টেনে তুলতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
বৈঠকে গাভি’র কর্মকর্তারা পুনর্ব্যক্ত করেছেন যে, আফগানিস্তান এখনও এই জোটের অন্যতম অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত দেশ। দেশের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষার লক্ষ্যে টিকাদান কর্মসূচিসহ সার্বিক স্বাস্থ্য উদ্যোগে তাঁদের সমর্থন ও সহায়তা চলমান থাকবে বলেও অঙ্গীকার করেন তাঁরা।
