নিজস্ব প্রতিবেদক :: সরকারের নীতিনির্ধারকরা এবার কঠোর রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আইএমএফের সেই পরামর্শকে খুব একটা আমলে নিচ্ছেন না। অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ সরকারকে সরকারি খাতের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা খাতে ভর্তুকি বা বরাদ্দ সীমিত রাখার জন্য পরোক্ষ চাপ দিয়ে আসছিল।
এ প্রসঙ্গে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, আমরা আইএমএফের সংস্কার প্রস্তাবগুলোকে সম্মান করি, কিন্তু দেশের অভ্যন্তরে জীবনযাত্রার যে আকাশচুম্বী ব্যয় এবং মূল্যস্ফীতি বেড়েছে, তা বিবেচনা না করে সরকারি কর্মচারীদের বঞ্চিত রাখা সম্ভব নয়। ১ জুলাই থেকেই নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত ঘোষণা রয়েছে। আশা করছি এ বিষয়ে আইএমএফ দ্বিমত পোষণ করবে না।
জানা গেছে, প্রথম থেকে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ১০০ ভাগ এবং ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন সর্বোচ্চ ১৪০ ভাগ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
অর্থ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই এই নতুন স্কেলের মূল বেতনের পুরো অংশ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে এবং সব ধরনের ভাতা আগামী অর্থবছরে দুই ধাপে পরিশোধ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বর্তমানে চালু থাকা ২০০০ থেকে ৩০০০ টাকার অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ ভাতাটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ, মূল বেতন এক লাফে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বিশেষ ভাতার আর কোনো যৌক্তিকতা থাকবে না।
সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে স্কেল দেওয়ার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় এবং সময়োপযোগী। বর্তমান বাজারে জীবনযাত্রার যে ব্যয় বেড়েছে, তাতে ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য ১৪০ শতাংশ এবং কর্মকর্তাদের জন্য ১০০ শতাংশ বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব অত্যন্ত যৌক্তিক। এটি না করলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান ধরে রাখা এবং প্রশাসনে সততা বজায় রাখা কঠিন হয়ে যেত। তিনি জানান, বেতন বাড়ার সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তেমন সম্পর্ক নেই। অস্টম পে স্কেলে সেরকম কিছু দেখা যায়নি। তাই এ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বাজেট ও আর্থিক সক্ষমতার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। নতুন কাঠামোর মূল বেতনের পুরো অংশ চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট থেকেই দেওয়া শুরু হবে। তবে সরকারের ওপর হঠাৎ বিশাল আর্থিক চাপ কমানোর জন্য ভাতাসংক্রান্ত অংশটি দুই ধাপে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে আগামী অর্থবছরে।
