আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: ইরানের একটি আদালত গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্রিটিশ নাগরিক ক্রেইগ ফোরম্যানের কারাদণ্ডের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে ২ বছর । কারা কর্তৃপক্ষ ও আদালতের অনুমতি ছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার অভিযোগে এই অতিরিক্ত সাজা ঘোষণা করা হয় বলে জানিয়েছে তারা পরিবার।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের শুরুতে মোটরসাইকেলে বিশ্বভ্রমণের অংশ হিসেবে ইরান সফরে গেলে ক্রেইগ ফোরম্যান ও তার স্ত্রী লিন্ডসে ফোরম্যানকে আটক করে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাদের প্রত্যেককে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও দম্পতিটি শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন
সম্প্রতি তেহরানের কুখ্যাত এভিন কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় ক্রেইগ ফোরম্যান আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকার দেন, যা ইরানি বিচার বিভাগের নজরে আসে।
বুধবার লিন্ডসে-ফোরম্যানের ছেলে ও পরিবারের মুখপাত্র জো বেনেট জানান, তারা খবর পেয়েছেন, ক্রেইগ ফোরম্যানকে তার আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করানোর কথা বলে বিচারকের সামনে হাজির করা হয়েছিল। সেখানেই তার তার সাজা আরো দুই বছর বাড়িয়েছেন সেই বিচারক৷ গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার কারণে ক্রেইগের সাজা বাড়ানো হয়েছে৷
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বর্ধিত সাজার খবরটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে আখ্যা দিয়েছে এবং এ বিষয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করছে বলে জানিয়েছে। এর আগে দেওয়া ১০ বছরের সাজাকেও ব্রিটেন “সম্পূর্ণ অন্যায় ও অগ্রহণযোগ্য” বলেছিল।
এদিকে স্বাধীন এবং প্রবাসী ইরানি সাংবাদিকদের পরিচালিত সংবাদমাধ্যম ইরানওয়্যার জানিয়েছে, কারাগারের ভেতরে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা না পাওয়া এবং মুক্তির আবেদন খারিজ হওয়ার প্রতিবাদে গত মে মাস থেকে এই ব্রিটিশ দম্পতি অনশন করছেন। ক্রেইগ বর্তমানে অনশনের ৬৮তম এবং লিন্ডসে ৫৯তম দিনে রয়েছেন, যার ফলে তাদের স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই দম্পতির বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক আইনি মানদণ্ড মেনে করা হয়নি এবং তাদের অন্যায়ভাবে বন্দি রাখা হয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে, ইরানওয়্যার
