জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির পরামর্শ সভা গতকাল ১৫ জুলাই বুধবার বাদ এশা রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলূমে অবস্থিত সংগঠনের ভাইস প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের সভাপতি মুফতি আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া। সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন।
সভায় জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি ফয়জুল্লাহ বিন মুখতার, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি সাইফুল্লাহ নোমানী, মুফতি আমানুল্লাহ বসন্তপুরী, মুফতি জাকির বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি আব্দুস সালাম, দপ্তর সমন্বয়ক মাওলানা আব্দুর রহমান, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মাওলানা কামাল উদ্দীন নোমানী, মুফতি আব্দুর রহমান বেতাগী, মাওলানা শফিউদ্দিন জিহাদি, মুফতি কামরুল ইসলাম শরীয়তপুরী এবং নির্বাহী কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
সভায় দেশের চলমান সার্বিক পরিস্থিতি, ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব, সংগঠনের কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে নির্বাহী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহ হলো—
প্রথমত, দেশের বন্যাকবলিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের উদ্যোগে ব্যাপকভাবে ত্রাণ তহবিল গঠন, ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দ্বিতীয়ত, সমসাময়িক জাতীয়, ধর্মীয় ও সামাজিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ নিয়ে দেশের প্রখ্যাত আলেম-উলামা, ইসলামী চিন্তাবিদ, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে জাতীয় পর্যায়ে একটি সেমিনার আয়োজন করা হবে।
তৃতীয়ত, কেন্দ্র থেকে তৃণমূল পর্যন্ত জাতীয় ইমাম পরিষদের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী, গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক সাংগঠনিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
চতুর্থত, বিভাগীয় পর্যায়ে সংগঠনের কার্যক্রম সম্প্রসারণ, নেতৃত্ব বিকাশ এবং সাংগঠনিক সমন্বয় জোরদারের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি বিভাগে ধারাবাহিক বিভাগীয় সম্মেলন ও বিশেষ কর্মসূচির আয়োজন করা হবে।
সভায় বক্তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইমাম, খতিব ও আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করে ইসলামের সুমহান আদর্শ, জাতীয় স্বার্থ এবং মানবকল্যাণে কার্যকর ভূমিকা পালন করা সময়ের অপরিহার্য দাবি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী, সুসংগঠিত ও জনকল্যাণমুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
পরিশেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং বিশেষ করে বন্যাকবলিত মানুষের দ্রুত দুর্ভোগ লাঘব কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
