বরিশাল প্রতিনিধি :: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমাত্রিক ক্ষতির বিবেচনায় দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা মাদক। আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশ যে জনমিতি লভ্যাংশ পেয়েছিলো তা কাজ লাগিয়ে দেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করা যেতো। সেজন্য দরকার ছিলো, জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রুপান্তরিত করা এবং সেই উদ্বৃত্ত জনশক্তি রপ্তানি করা ও দেশে কর্মসংস্থান তৈরি করা। কিন্তু অতিতের কোন সরকারই এই ধরনের পদক্ষেপ নেয় নাই বরং উদ্বৃত্ত জনশক্তিকে নষ্ট করতে মাদককে প্রশ্রয় দিয়েছে।
তিনি বলেন, ফলে আমাদের জনসম্পদ নিস্ক্রিয় হয়েছে, কোন কোন ক্ষেত্রে ধ্বংশ হয়েছে। এখন জাতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো, মাদক প্রতিরোধ করা। আর মাদক প্রতিরোধের জন্য চাহিদা ও যোগান উভয় দিক নির্মূল করতে হবে। আমরা মাদকের চাহিদা কমিয়ে আনার প্রচেষ্টা করতে পারি, কিন্তু মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করার দায়িত্ব রাষ্ট্রকেই নিতে হবে। জনাব তারেক রহমানের সরকারকে বলবো, মাদক সরবরাহের সাথে দেশের অনেক রথি-মহারথিদের সংযোগ থাকে। শর্ষের মধ্যে ভুত থাকে। তাই মাদকের সরবরাহ লাইন নির্মূল করতে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে একক দায়িত্ব নিতে হবে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই ২০২৬) বরিশালের চরমোনাই ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণ কর্তৃক আয়োজিত “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে সুধী সেমিনার ও আলোচনা সভা” য় প্রধান অতিথির বক্তব্য এই মন্তব্য করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর।
চরমোনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাওলানা সৈয়দ মুহাম্মাদ জিয়াউল করীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে পীর সাহেব চরমোনাই মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরেন এবং চরমোনাই ইউনিয়নসহ পুরো দেশকে মাদকমুক্ত করার জন্য রাজনৈতিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক আন্দোলনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

সূধী সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম, শায়খে চরমোনাই, দলের সহকারী মহাসচিব মাওলানা সৈয়দ এসহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের, বিএমপির এডিসি (দক্ষিণ) জনাব মুহাম্মাদ বেলাল হুসাইন ও বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আল মামুন উল ইসলাম।
