জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা আলিয়া মাদরাসাসহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে চলা হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশের সব ক্যাম্পাসে সহিংসতা, অস্ত্রের প্রদর্শন এবং প্রতিহিংসার রাজনীতি স্থায়ীভাবে বন্ধের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিদওয়ান মাযহারী এবং সাধারণ সম্পাদক সাআদ বিন জাকির যৌথভাবে এক গণমাধ্যমে প্রেরিত বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে ছাত্র জমিয়তের শীর্ষ এই দুই নেতা বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী দীর্ঘ লড়াই ও ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় বর্ষে এসে দেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংঘর্ষ, মহড়া এবং সহিংসতার দৃশ্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ দেশের মানুষকে ঐক্য, ন্যায়বিচার এবং সুস্থ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির এক নতুন বার্তা উপহার দিয়েছিল। সেই পবিত্র আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে যেকোনো ধরনের সংঘাত ও প্রতিহিংসার রাজনীতি সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সাংগঠনিক প্রতিযোগিতা যেকোনো গণতান্ত্রিক পরিবেশের অত্যন্ত স্বাভাবিক একটি অংশ। তবে তা কখনোই সংঘর্ষ, আগ্নেয়াস্ত্র বা দেশীয় অস্ত্রের ব্যবহার কিংবা সাধারণ ও সহপাঠী শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম হামলায় রূপ নিতে পারে না। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘর্ষের ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীরা যখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন, তখনও হাসপাতালে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও চরম মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান দেশের মানুষকে পারস্পরিক ঐক্যবদ্ধ থাকার অনন্য শিক্ষা দিয়েছে। কিন্তু এর দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে সংঘাত ও বিভাজনের এই পুনরাবৃত্তি গোটা জাতিকে হতাশ করছে এবং ছাত্রসমাজের প্রত্যাশাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে। শিক্ষাঙ্গনে দখলদারিত্ব, আধিপত্য বিস্তার ও সহিংসতার পরিবর্তে একটি নিরাপদ ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশ, অবাধ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং প্রকৃত দায়িত্বশীল ছাত্ররাজনীতির সুস্থ বিকাশ অত্যন্ত জরুরি।
ছাত্র জমিয়ত বাংলাদেশ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং ঢাকা আলিয়া মাদরাসাসহ দেশের অন্যান্য ক্যাম্পাসে সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সকল হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ বিচারিক তদন্তের দাবি জানায়। একই সঙ্গে তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়। দেশের সকল রাজনৈতিক দল ও ছাত্রসংগঠনের প্রতি পারস্পরিক সহাবস্থান, গণতান্ত্রিক শ্রদ্ধাবোধ এবং শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানানো হয় বিবৃতিতে।
পরিশেষে নেতৃদ্বয় বলেন, ছাত্ররাজনীতির মূল ভিত্তি ও সৌন্দর্য হওয়া উচিত শিক্ষা, যুক্তি এবং আদর্শিক চর্চা। ক্যাম্পাসের শান্তিপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করে এমন কোনো ধ্বংসাত্মক ও সহিংস কর্মকাণ্ড কখনোই শিক্ষার্থীসমাজ ও দেশের বৃহত্তর স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে না।
টিএইচএ/
