রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ শাখা ছাত্রদল এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই সংঘর্ষে উভয় সংগঠনের অন্তত ২৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দুই পক্ষই দাবি করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ৩টার দিকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকা ও এর আশপাশে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল জানান, মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে তারা একটি মিছিল নিয়ে রায়সাহেব বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের ভেতর থেকে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা তাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল, নারিকেলের খোসা এবং লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালান। এই হামলায় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিম, সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম রুবেল নিজে, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদ সেতু এবং সহ-সভাপতি রাকিবসহ অন্তত ১০ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে তারা সম্মিলিতভাবে হামলা প্রতিহত করেন বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে ছাত্রশিবির। সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জীবন অভিযোগ করে বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংঘর্ষে আহত ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের দেখতে তারা ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে সোহরাওয়ার্দী কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জসিমের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মীরা হাসপাতালের ভেতরে অনধিকার প্রবেশ করে তাদের ওপর পৈশাচিক হামলা চালান। ছাত্রশিবিরের দাবি, এই আকস্মিক হামলায় কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাজিব এবং সাথী হুজাইফাসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
হঠাৎ এই দুই ছাত্র সংগঠনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ফলে পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল হাসপাতাল ও রায়সাহেব বাজার এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে যায় এবং কঠোরহস্তে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমান পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
টিএইচএ/
