নেপাল–তিব্বত সীমান্তে আজকের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধস হৃদয়বিদারক। মুহূর্তের মধ্যে মানুষের ঘরবাড়ি, সেতু, সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ভেসে গেছে। বহু মানুষ হতাহত ও নিখোঁজ হয়েছেন। এই কঠিন সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত নেপালি ও তিব্বতি জনগণের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই এবং নিখোঁজদের উদ্ধারে দ্রুত ও কার্যকর তৎপরতার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাই।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নেপালের রাসুওয়া অঞ্চলে ভোতে কোশি নদীতে হঠাৎ বিপুল পানির ঢল নেমে আসে। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, উজানে বরফ-পাথরের ধস নদীর প্রবাহ আটকে একটি অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি করেছিল। পরে সেই বাধ ভেঙে পানি, কাদা ও পাথরের প্রবল স্রোত নেমে আসে। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো তদন্তাধীন।
এই ঘটনা আমাদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, হিমালয়ের নদীগুলো কোনো এক দেশের সম্পদ নয়; এগুলো বহু দেশের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। নেপালের নদীপ্রবাহের পরিবর্তনের প্রভাব ভারতের বিহারসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে বিহারে কোশি ও গণ্ডক নদী অববাহিকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
হিমালয়ের বরফ, হিমবাহ ও নদী ব্যবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ভবিষ্যতে এ ধরনের আকস্মিক দুর্যোগের ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে। তাই শুধু দুর্যোগের পর উদ্ধার তৎপরতা নয়, উজান ও ভাটির দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময়, আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।
প্রকৃতির এই বার্তাকে আমাদেরও গুরুত্ব দিয়ে শুনতে হবে। কারণ হিমালয়ে যে পানি ও প্রকৃতির পরিবর্তন শুরু হয়, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভারত হয়ে আমাদের বৃহত্তর নদী অববাহিকাতেও পৌঁছাতে পারে।
আকস্মিক বন্যায় নিহতদের প্রতি জানাচ্ছি গভীর শোক। আল্লাহ তাআলা আহতদের দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং নিখোঁজদের নিরাপদে ফিরে আসার ব্যবস্থা করুন। ক্ষতিগ্রস্ত সব মানুষের প্রতি আমাদের সহমর্মিতা রইল।
