সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুরের ঘটনাটি যে মূলত জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে, সেটি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তেই স্পষ্ট হয়েছে। আর এই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া-২ আসনের এমপি মো. আবদুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানকে মামলার ৯ নম্বর আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অথচ ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির ফেসবুক লাইভে এসে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলে অভিযুক্ত করেছেন এবং সেই বক্তব্য মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।
আমার প্রশ্ন খুব পরিষ্কার—
এই ঘটনায় বিএনপির লোক কোথায়?
কোন বিএনপি নেতা সেখানে ছিল?
কোন বিএনপি কর্মী হামলা করেছে?
কোন বিএনপি নেতা চাঁদা চেয়েছে?
যেখানে ঘটনার তদন্তে জমি-বিরোধের বিষয় সামনে এসেছে, যেখানে বিএনপির সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ সামনে আসেনি, সেখানে বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ দল’ বলার সাহস ও ভিত্তি তিনি কোথায় পেলেন?
আরও বড় প্রশ্ন—
যদি ঘটনাটির সঙ্গে জামায়াতের একজন সংসদ সদস্যের জামাতার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে মামলার আসামি করে গ্রেপ্তার করা হয়ে থাকে, তাহলে সালমান মুক্তাদির বিএনপির নাম কেন সামনে আনলেন?
কারও স্টুডিও ভাঙচুর হলে তার বিচার অবশ্যই হতে হবে। যারা হামলা করেছে, লুটপাট করেছে বা আইন ভেঙেছে—তাদের প্রত্যেকের বিচার চাই।
কিন্তু একটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কহীন একটি রাজনৈতিক দলকে ‘চাঁদাবাজ’ বলে দেশব্যাপী অপমান করারও জবাবদিহি থাকতে হবে।
সালমান মুক্তাদিরের কাছে যদি বিএনপির বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ থাকে, প্রকাশ করুন। কারা চাঁদা চেয়েছে, নাম বলুন। প্রমাণ দিন। মামলা করুন।
কিন্তু প্রমাণ ছাড়া একটি দলকে চাঁদাবাজ আখ্যা দিয়ে লাখ লাখ নেতা-কর্মীর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
অপরাধীদের বিচার যেমন চাই,
তেমনি বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা ও প্রমাণহীন অভিযোগের জন্য সালমান মুক্তাদিরেরও জবাবদিহি চাই।
প্রয়োজনে তার বিরুদ্ধে মানহানি ও মিথ্যা অভিযোগের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিএনপিকে আক্রমণ করবেন—রাজনৈতিক যুক্তি দিয়ে করুন।
মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নয়।
এবার বিএনপির নাম টানার জবাব দিন, সালমান মুক্তাদির।
এনাফ ইজ এনাফ।
বোরহান উদ্দিন ইশরাক
সদ্য সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক
ঢাকা কলেজ ছাত্রদল।
