আত্মজুলুমের শিকার হয়ো না

|| নাজমুল হুদা মজনু ||

by Fatih Work

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের মনোনীত একমাত্র দ্বীন– ইসলামকে বিশ্বব্যাপী বিস্তারের লক্ষ্যে এবং লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ; এ পবিত্র কালেমা বুলন্দ করার জন্য আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দাওয়াতি কাজের পাশাপাশি অনেকগুলো যুদ্ধ-জিহাদ পরিচালিত হয়েছে। বেশ কয়েকটি যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম নিজে অংশগ্রহণ করেছেন এবং নেতৃত্ব দান করেছেন। এমনি একটি যুদ্ধের নাম তাবুক যুদ্ধ, যাতে অংশগ্রহণের জন্য নবম হিজরির রজব মাসের এক বৃহস্পতিবার আল্লাহর হাবিব মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুজাহিদদের এক বিশাল বাহিনী নিয়ে তাবুকের উদ্দেশে রওয়ানা হন। ইসলামের ইতিহাসে জানা যায় যে, এটিই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় যুদ্ধাভিযান।

গাজওয়ায়ে তাবুক বা তাবুক যুদ্ধ রোম সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়। সেই সময়ের অর্ধেক পৃথিবীর একচ্ছত্র শাসক রোম সম্রাটের সিরীয় গভর্নরের বিরুদ্ধে অষ্টম হিজরির জমাদিয়াল উলা মাসে পরিচালিত অভিযানে এক অসম যুদ্ধে রোমকদের পিছুটানের ফলে আরব উপদ্বীপে মুসলিম শক্তির অভূতপূর্ব বিস্তার ঘটে। এ ছাড়া আরো একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়, যার নাম মুতার যুদ্ধ। এটি সংঘটিত হয় জর্দানের মুতা নামক স্থানে, যা মুসলিম এবং রোমানদের মাঝে একটি অন্যতম যুদ্ধ। এ যুদ্ধে মুসলিমরা কৌশলগত জয়লাভ করে। এতে ১২ জন মুসলিম শহীদ হন। তবে রোমকদের মধ্যে কতসংখ্যক হতাহত হয়েছিল, তার বিবরণ জানা যায়নি। এটি ৬২৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সংঘটিত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন
banner

মুতার যুদ্ধে রোমকদের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযানের ১৩ মাস পর তাবুক যুদ্ধ  ছিল তাদের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযান। আর এটিই ছিল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অংশগ্রহণে তাঁর জীবনের শেষ যুদ্ধ।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের কাছে চারটি সম্মানিত মাসের মধ্যে রজব হলো একটি।

আল্লাহ জাল্লা শানুহু যুদ্ধ-বিগ্রহ নিষিদ্ধ মাসের মধ্যে রজব মাসকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। এই চারটি মাসের ব্যাপারে আল্লাহ রব্বুল আলামিন কুরআনুল কারিমে নির্দেশনা দিয়েছেন–

আসমানসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টির দিন থেকেই আল্লাহ তায়ালার বিধানে মাসের সংখ্যা ১২টি, এর মধ্যে চারটি হচ্ছে (যুদ্ধ-বিগ্রহের জন্য) নিষিদ্ধ মাস; এটা (আল্লাহর  প্রণীত) নির্ভুল ব্যবস্থা, অতএব তার ভেতরে (হানাহানি করে) তোমরা নিজেদের ওপর জুলুম করো না, তোমরা (যখন) মুশরিকদের সাথে যুদ্ধ করবে, (তখন সবাই) একসাথে মিলিত হয়ে (তাদের) মোকাবেলা করবে, যেমনিভাবে তারাও একসাথে তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। জেনে রেখো, যারা আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে, আল্লাহ তায়ালা অবশ্যই তাদের সাথে রয়েছেন। -সুরা তাওবাহ : ৩৬

রজব মাসের ব্যাপারে হাদিসের গ্রন্থ বায়হাকির এক বর্ণনায় পাওয়া যায়, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন রজব মাসের চাঁদ দেখতেন তখন থেকেই এ দোয়া শুরু করতেন– ‘আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফি রজবা ওয়া শা’বান ওয়া বাল্লিগনা রামাদান। অর্থাৎ, ‘হে আল্লাহ আপনি রজব ও শা’বান মাসকে আমাদের জন্য বরকতময় করুন এবং আমাদেরকে রমজান মাস পর্যন্ত পৌঁছে দিন অর্থাৎ রমজান পর্যন্ত হায়াত বৃদ্ধি করে দিন, যাতে আমরা রমজানের বরকত থেকে উপকৃত হতে পারি।’

অবশ্য আলেমদের মধ্যে অনেকে বলেন, হাদিসটি জ‌ঈফ অর্থাৎ দুর্বল। আবার কোনো কোনো আলেম এ কথাও বলেন যে, একটি মুস্তাহাব আমলের ব্যাপারে জ‌ঈফ হাদিস যথেষ্ট।

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে দয়া করে তার রহমতের ছায়ায় আশ্রয় দান করুন। রজব, শা’বান ও রমজানের মূল তাৎপর্য জানার-মানার এবং কল্যাণ প্রাপ্তির তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক : সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

এমএনএকে/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222