গাজায় দখলদার ইসরায়েলের হামলায় গত তিন দিনে অন্তত ৫০৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, এর মধ্যে ২০০ শিশু রয়েছে। মঙ্গলবার রাতে শুরু হওয়া এ হামলায় গাজার বাসিন্দারা যখন সাহ্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তখনই তারা অতর্কিত বিমান হামলার শিকার হন।
পবিত্র রমজান মাসে হামলার ফলে গাজাবাসীর জীবনে আবার ফিরে এসেছে দুঃস্বপ্নের রাত। যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভঙ্গের পর আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। গত জানুয়ারিতে ১৫ মাসের নৃশংস হামলার পর গাজাবাসীরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল, কিন্তু নতুন হামলায় তারা আবারও আতঙ্কিত।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার ভোর থেকে দখলদার ইসরায়েলি হামলায় ১১০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ পর্যন্ত গাজায় নিহতের সংখ্যা ৪৯ হাজার ৬১৭ জন ছাড়িয়েছে, আহতের সংখ্যা এক লাখেরও বেশি।
গাজার উপর দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে, এবং আক্রমণগুলো মূলত হামাসের পরিকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে হামাস দাবি করেছে, এসব হামলায় বহু সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছে।
গাজার অবরোধ এবং সীমান্ত বন্ধের কারণে সেখানে মানবিক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। খাদ্য সংকটসহ বাণিজ্যিক পণ্যের দাম ২০০ শতাংশ বেড়ে গেছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ক্রমেই সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় হামলা বন্ধের দাবিতে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে। গতকাল, জেরুজালেমে অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভ ছিল সবচেয়ে বড়, যেখানে পার্লামেন্ট ভবনের কাছে হাজারো মানুষ অংশ নেয়।
এনএ/
