আমিরুল ইসলাম লুকমান>>
সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সুফিউর রহমানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিজের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ রোববার (২০ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টাকে সহায়তা করতে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে।
বিশেষ সহকারী পদে থাকাকালে সুফিউর রহমান প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা পাবেন।
মোহাম্মদ সুফিউর রহমানের এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে চ্যাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন। নতুন নিয়োগ পাওয়া বিশেষ সহকারীর আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তিনি গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। তিনি লিখেছেন,
‘স্বৈরাচারী হাসিনার শাসনামলে এক দশকেরও বেশি সময় ফ্যাসিজমের বিশ্বস্ত ও প্রভাবশালী রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মোহাম্মদ সুফিউর রহমান।
পুরস্কার হিসেবে ২০২৩ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের মে পর্যন্ত আওয়ামী সরকার তার অবসরোত্তর মেয়াদ বাড়িয়ে দেন। সুফিউর সুইজারল্যান্ডে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং জেনেভার জাতিসংঘ অফিসসমূহ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এ সময়ে তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ধামাচাপা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। এছাড়াও মানবাধিকার কাউন্সিলে জাতিসংঘের জেনেভা অফিসে হাসিনা সরকারের নিপীড়নের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশ্বস্ত মাধ্যমে জানা গেছে, সুফিউর রহমান শেখ হাসিনাকে বোঝাতে সমর্থ হন যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিলে তিনি শান্তিতে নোবেল পেতে পারেন।’
এদিকে বার্তা টুয়েন্টিফোরের এ্যাসিস্ট্যন্ট এডিটর মুফতি এনায়েতুল্লাহ তার ফেসবুক পোস্টে মোহাম্মদ সুফিউর রহমানের নিয়োগ নিয়ে তথ্য বিনিময় করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘ধীরে ধীরে বুঝে আসছে, ইলেকশনের কথায় কেন উনাদের শরীর গরম হয়, মুখ শুকায়া যায়!’
এআইএল/
