হাসান আল মাহমুদ >>
সুদীর্ঘ ১৩ বছর মিথ্যা মামলায় কারাভোগ শেষে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন মাদানীনগর মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম ও সম্মানিত আলেমে দ্বীন মাওলানা আকবর হুসাইন (দা.বা.)। বুধবার (২৮ মে) দিবাগত রাত ৮টার দিকে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। এরপর রাত ১১টার দিকে ফিরে আসেন তাঁর বহুদিনের খেদমতগাহ, প্রিয় কর্মস্থল মাদানীনগর মাদরাসায়।
শায়খে সন্দ্বীপী রহ. এর সুযোগ্য নাতি মাওলানা সালমান রাইয়ান বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ! আজ শায়েখে সন্দ্বীপী রহ. এর কাননে আনন্দ ও শুকরিয়ার আমেজ বিরাজ করছে। আমরা আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি।”
তিনি আরও জানান, তাঁর ফুফা মাওলানা আকবর হুসাইন জামিনে মুক্ত হয়ে রাতে মাদ্রাসায় পৌঁছালে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং হৃদয়ভরা ভালোবাসা ও সম্মান জানান।

বরণ করে নিতে মহাসড়কে হুজুরের শিষ্য ও ভক্তবৃন্দ
হুযূরের আগমন উপলক্ষে গোটা মাদরাসা প্রাঙ্গণ আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে মসজিদে তাঁর প্রথম বক্তব্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি অনেকে। উপস্থিত মুসল্লিরা নীরব হয়ে শুনেছেন কারাবন্দি জীবনের কিছু মুহূর্ত আর দ্বীনি খেদমতের প্রেরণাদায়ী বার্তা। দীর্ঘদিন পর আবারও হাদীসের মসনদে বসলেন এই বরেণ্য শায়খ।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উচ্ছ্বাস
মাওলানা আকবর হুসাইনের মুক্তির খবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের প্রকাশ ঘটেছে।
সাংবাদিক মাহফুজ হোসাইনী লিখেন, “আলহামদুলিল্লাহ! জুলুমের ধ্বংস অনিবার্য। চূড়ান্ত বিজয় সত্যের জন্যই। দীর্ঘ তেরো বছর জুলুম নির্যাতনে আবদ্ধ ছিলেন। এখন মুক্ত বাতাসে মাদানীনগর মাদরাসার নায়েবে মুহতামিম মাওলানা আলী আকবর হাফি.। আলহামদুলিল্লাহ।”
কাজী কামাল মনির বলেন, “আজ মাদানীনগর মাদ্রাসায় আনন্দের ঢল। শায়েখে সন্দ্বীপী রহ. দ্বিতীয় জামাতা, আমার ধর্মীয় মুরুব্বীদের একজন, মাদানীনগর মাদ্রাসার নায়েবে হুজুর মাওলানা আকবর হুসাইন হাফিজুল্লাহ রমনা বটমূলের বোমা হামলা মামলায় খালাস পাওয়ায় আজ মুক্তি পেয়ে প্রিয় মাদ্রাসায় এসেছেন। ঢাকা থেকে ফেরার পথে ছাত্রদের ভীড় দেখে বুঝেছি, হুজুর আসছেন। অপেক্ষার পর তাঁর আগমন প্রত্যক্ষ করতে পেরে ধন্য হয়েছি।”
স্থানীয় মুসলিম জনতা, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা হুযূরের জন্য দোয়া করেন যেন আল্লাহ তাআলা তাঁর ত্যাগ ও কুরবানিকে কবুল করেন এবং তাঁর ছায়া দীর্ঘদিন আমাদের ওপর অটুট রাখেন।
হাআমা/
