বশির আহমদ মোল্লা, নরসিংদী
নরসিংদীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে বাম চোখ হারানো তানভীর মোল্লা নিলয়ের পাশে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের নির্দেশে আজ মঙ্গলবার বিকালে পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের দক্ষিণ দেওড়া গ্রামে নিলয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
নগদ এই অনুদানটি তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভূইয়া মিল্টন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আওলাদ হোসেন জনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু বক্কর, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব বখতিয়ার হোসেন, ঘোড়াশাল শহর ছাত্রদলের আহ্বায়ক আমানউল্লাহ আমান ও সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম আরিফসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।
নিলয়ের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পলাশ শিল্পাঞ্চল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করা তানভীর মোল্লা নিলয় গত ১৮ জুলাই বিকেলে নরসিংদীর ভেলানগর এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মিছিলে অংশ নেন। মিছিলটি কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর হঠাৎ পুলিশের গুলিতে এলোমেলোভাবে গুলি চালানো হয়। এতে নরসিংদীর এনকেএম হাই স্কুল অ্যান্ড হোমসের নবম শ্রেণির ছাত্র তাহমিদ ভূঁইয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে নিলয় নিজেও পুলিশের ছোড়া গুলিতে বাম চোখে গুরুতর আহত হন।
প্রথমে তাকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা না পেয়ে পরে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরিবারের আর্থিক দুরবস্থার কারণে তার উন্নত চিকিৎসা সম্ভব হয়নি। ফলে ধীরে ধীরে তার বাম চোখটি সম্পূর্ণরূপে অকেজো হয়ে যায়।
বিএনপি নেতা বাহাউদ্দীন ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, “নিলয় একজন সাহসী ছাত্র আন্দোলনের যোদ্ধা। চিকিৎসার অভাবে তার একটি চোখ অন্ধ হয়ে গেছে—এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। ড. আবদুল মঈন খান স্যারের নির্দেশে আমরা তার পাশে দাঁড়িয়েছি। উন্নত চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন, পলাশ উপজেলা বিএনপি সেই দায়িত্ব নিয়েছে।”
উল্লেখ্য, চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে পুলিশি দমন-পীড়নের ঘটনায় ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এ অবস্থায় দল-মত নির্বিশেষে আহতদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।
এনএ/
