আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বৈশ্বিক নানামুখী নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও জীবনযুদ্ধে দমে না গিয়ে আফগানিস্তানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায় আত্মনিয়োগ করছেন বিপুল সংখ্যক নারী। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ সাময়িক বন্ধ থাকায় কাবুলের সুমাইয়া নামের এক তরুণী নিজের জমানো টাকা দিয়ে গড়ে তুলেছেন একটি টেইলারিং ওয়ার্কশপ, বর্তমানে তার অধিনে ২০ জন নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। কম্পিউটার সায়েন্সে পড়ার ইচ্ছা থাকলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে পেশা হিসেবে সেলাইকে বেছে নিয়ে অন্য নারীদের আয়ের পথ তৈরি করে দিচ্ছেন তিনি।
জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) জানিয়েছে, গত পাঁচ বছরে আফগানিস্তানে নারী উদ্যোক্তাদের নামে নিবন্ধিত ব্যবসার লাইসেন্সের সংখ্যা দশ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সংস্থাটির তথ্যমতে, বর্তমানে ১০ হাজারেরও বেশি আফগান নারীর কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যবসায়িক লাইসেন্স রয়েছে। আফগানিস্তানে ইউএনডিপির উপ-প্রতিনিধি দোয়েল মুখার্জী জানান, তারা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বহুমুখী সহায়তা দিতে কাজ করছেন এবং এই কার্যক্রম দেশজুড়ে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তবে নতুন শুরু করা নারী উদ্যোক্তারা এখনও পর্যাপ্ত আর্থিক সংকটসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন মুমতাজ ইউসাফজাই নামের এক নারী ব্যবসায়ী। তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছ থেকে আরও বেশি সহযোগিতার তাগিদ দেন। এ বিষয়ে আফগানিস্তানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আব্দুল লতিফ নাজারি বলেন, সরকার সব খাতের উদ্যোক্তাদের সমর্থন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নারী উদ্যোক্তারা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
উল্লেখ্য, ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত আফগানিস্তানে ৯০ হাজারের বেশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছে ইউএনডিপি।
টিএইচএ/
