২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নেমে ইংলিশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক রূপকথা লিখেছেন টটেনহ্যাম হটস্পারের ফুল-ব্যাক জেড স্পেন্স। থ্রি লায়ন্সদের প্রতিনিধিত্বকারী প্রথম মুসলিম আন্তর্জাতিক ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের মঞ্চে লাল-সাদা জার্সি গায়ে মাঠে নামার বিরল গৌরব অর্জন করেছেন ২৫ বছর বয়সী এই রক্ষণভাগের তারকা। প্রথম মুসলিম ফুটবলার হিসেবে ইংল্যান্ডের সিনিয়র দলে অভিষেকের পাশাপাশি প্রথম মুসলিম হিসেবে বিশ্বকাপে দেশের হয়ে খেলার গৌরব অর্জন করার মধ্য দিয়ে দলের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
জেড স্পেন্সের এই ঐতিহাসিক যাত্রার সূচনা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৯ আগস্ট, যখন প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মূল জাতীয় দলে তার ডাক আসে। এরপর একই বছরের ৯ সেপ্টেম্বর সার্বিয়ার বিরুদ্ধে ২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে রিক জেমসের পরিবর্তে বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তার প্রথম আন্তর্জাতিক ক্যাপ লাভ করেন তিনি। সেদিন জাতীয় দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইনের হাত থেকে অভিষেক ক্যাপ গ্রহণ করার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে স্পেন্স বলেন যে, ইংল্যান্ডের মতো ঐতিহাসিক একটি দলের অংশ হতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত আশীর্বাদপুষ্ট মনে করছেন। এই অর্জন তার জন্য অভাবনীয় ছিল এবং আনন্দের মাত্রা প্রকাশ করার ভাষা তার কাছে ছিল না।
এরপর ২০২৬ সালের ২২ মে ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃক ঘোষিত ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত বিশ্বকাপ দলে জায়গা করে নেন স্পেন্স। ১৭ জুন ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে জয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ঘটান তিনি। সেই ম্যাচে খেলার শেষ দিকে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমে খুব কাছ থেকেই গোল করার এক দারুণ সম্ভাবনাও তৈরি করেছিলেন। পরবর্তীকালে ২৩ জুন ঘানার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচে প্রথম একাদশে সুযোগ পেয়ে বাম প্রান্তের রক্ষণভাগ সামলান এবং ৬৬ মিনিট মাঠ মাতিয়ে রাখেন। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে পানামার বিরুদ্ধে ২-০ ব্যবধানের জয়েও দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমেছিলেন স্পেন্স।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে স্পেন্সের পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দ্বিতীয় রাউন্ডের অর্থাৎ সেরা ৩২ দলের লড়াইয়ে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের জয়ে তিনি ডান প্রান্তের ফুল-ব্যাক হিসেবে শুরুর একাদশে ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীতে সেরা ষোলর লড়াইয়ে মেক্সিকোকে ৩-২ ব্যবধানে পরাজিত করার পর গত ১১ জুলাই নরওয়েকে পরাজিত করে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে। নরওয়ের বিপক্ষে মহাগুরুত্বপূর্ণ জয় নিশ্চিত হওয়ার পর মাঠে স্পেন্সের নামাজ আদায়ের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা পরবর্তীতে দলের ভেতরে অন্তর্ভুক্তিমূলক ভ্রাতৃত্বের অনন্য বার্তা হিসেবে বিশ্বব্যাপী প্রশংসা অর্জন করেছে।
টিএইচএ/
