একদিনে স্পেন পৌঁছেছে ৪৯০০০ অভিবাসী

by Masudul Kadir

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :: মাত্র ২৪ ঘণ্টায় মরক্কো থেকে আনুমানিক ৪৯ হাজার অভিবাসী স্পেনের উত্তর আফ্রিকার ছিটমহল সেউতায় প্রবেশ করেছেন বলে জানিয়েছে স্প্যানিশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সমুদ্র ও স্থলপথ দিয়ে একসাথে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের এই হঠাৎ আগমন দেশটিতে তীব্র অভিবাসন সংকট তৈরি করেছে।

শুক্রবার স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) ভোর থেকে হাজার হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী মরক্কো সীমান্ত থেকে সমুদ্র সাঁতরে এবং কাঁটাতারের বেড়া পেরিয়ে সেউতার তারাহাল সীমান্ত দিয়ে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করেন। এই বিপজ্জনক পারাপারের সময় সীমান্ত পদদলিত হয়ে ও সমুদ্রে অন্তত ১৫ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এছাড়াও আরও অনেকে সাগরে নিখোঁজ রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সমুদ্রে নিখোঁজ মানুষদের সন্ধানে স্পেনের সিভিল গার্ড, মেরিটাইম রেসকিউ সার্ভিস এবং রেড ক্রস যৌথভাবে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, উন্নত জীবনের আশায় নারী, পুরুষ ও শিশুসহ শত শত অভিবাসী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্পেনের ভূখণ্ডে প্রবেশ করছেন। এ সময় কয়েকজন অভিবাসী ‘ভিভা এস্পানা!’ বলে স্লোগান দিচ্ছেন।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, হঠাৎ এত মানুষের চাপে স্থানীয় আশ্রয়কেন্দ্রগুলো তাদের ধারণক্ষমতা হারিয়েছে, যার ফলে শত শত অভিবাসীকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হচ্ছে। পরিস্থিতিকে ‘বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার দাবি জানিয়েছে তারা।ৎ

যদিও স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের মতে, এ ধরনের পদক্ষেপ অভিবাসন সংকটের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। তবে পরিস্থিতি মোকাবিলায় অতিরিক্ত সম্পদ বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।

পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে সশস্ত্র বাহিনীর ৬০ জন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এছাড়াও স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সেউতা পরিদর্শনে যাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

অভিবাসী অধিকারকর্মী জাকারিয়া জারোকি রয়টার্সকে বলেন, অভিবাসীর সংখ্যায় এ আকস্মিক বৃদ্ধি ২০২১ সালের মে মাসের ঘটনার মতোই। সে সময় প্রায় ১০ হাজার মরক্কো ও সাব-সাহারান আফ্রিকার তরুণ কয়েক দিনের মধ্যেই এ অঞ্চলে প্রবেশ করেছিলেন।

তিনি বলেন, এ মুহূর্তেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে। সীমান্ত পার হওয়ার চেষ্টায় লোকজন এখনও মরক্কোর ফনিদেক শহরে জড়ো হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সেউতা উত্তর আফ্রিকায় অবস্থিত স্পেনের দুটি স্বায়ত্তশাসিত শহরের একটি। এটি ও মেলিলা এই দুটি শহরই আফ্রিকার সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একমাত্র স্থলসীমান্ত গঠন করেছে। ইউরোপে প্রবেশের আশায় অভিবাসীদের সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা প্রায়ই এ দুটি শহরে বেড়ে যায়।

সূত্র: রয়টার্স, আলজাজিরা

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222