ককরোচদের আন্দোলন অব্যাহত, মোদির গদি কী উল্টে যাচ্ছে?

by hsnalmahmud@gmail.com

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :; নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে গত তিন দিন আগে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা করেছিল কয়েক হাজার তরুণ। পুলিশের লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাসের মুখে পড়েও সেই আন্দোলন এখনো জারি রয়েছে জন্তর মন্তরে।

এদিকে দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশের পর অনশনরত পরিবেশবিদ ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুককে সরকারি সাফদারজং হাসপাতাল থেকে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। অন্যদিকে, ২১ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধর্না দেওয়া কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্রা ও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবকে আটকের কিছুক্ষণ পরই ছেড়ে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন
banner

এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে তিনি বলেছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের মতো ‘গুরুতর অপরাধের’ সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপির নেতা ও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, এই যোগাযোগ কয়েক দিন আগেই কেন করা হলো না?

তরুণদের মনে ঝড় তুলেছে ত্রুটিপূর্ণ শিক্ষাব্যবস্থা

জন্তর মন্তরের আন্দোলন স্পষ্ট করছে, একটি ত্রুটিপূর্ণ পরীক্ষা ও শিক্ষাব্যবস্থা ভারতের তরুণদের মনে কতটা ক্ষোভ জমিয়ে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণ প্রজন্মের এই অনুভূতিকে রাজনৈতিক দলগুলো উপেক্ষা করলে তা তাদের জন্যই বিপজ্জনক হবে। মোদী সরকার সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও, একটি বৈচিত্র্যময় ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী তরুণ দেশে রাস্তার প্রতিবাদের মুখোমুখি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

সিজেপির এই প্রতিবাদ অতীতের আন্দোলনগুলো থেকে ভিন্ন। এটি সমাজের কোনো নির্দিষ্ট অংশের দাবিতে গড়ে ওঠেনি—যেমনটা দেখা গিয়েছিল কৃষক আন্দোলন বা সিএএ-এনআরসি-বিরোধী ধর্নার ক্ষেত্রে।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের আদালতকক্ষে ‘কাকরোচ’ (তেলাপোকা) শব্দের ব্যবহারের জবাবে অভিজিৎ ডিপকের উদ্যোগে জন্ম নেওয়া সিজেপি আসলে একটি ব্যঙ্গাত্মক যুব প্ল্যাটফর্ম। অতীতে জেপি আন্দোলন, আসাম আন্দোলন বা আন্না হাজারের আন্দোলনে একটি স্পষ্ট নেতৃত্ব ছিল, যা পরে রাজনৈতিক দলে রূপ নিয়েছিল। কিন্তু সিজেপি মূলত সামাজিক মাধ্যমের যুগের একটি অনলাইন ঘটনা, যা এখন অফলাইন সংগঠনে পরিণত হওয়ার চেষ্টা করছে। এই রূপান্তর মোটেও সহজ হবে না।

ওয়াংচুক ইফেক্ট

জন্তর মন্তরের মাসব্যাপী আন্দোলনে দুটি বড় মোড় এসেছে। প্রথমটি, গত ২৮ জুন সোনম ওয়াংচুকের অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু, যা আন্দোলনকে ভিন্ন মাত্রা দেয়। যদিও শুরুর দিকে তার অনশনে তেমন ভিড় হয়নি। কিন্তু ১৮ জুলাই, অনশনের ২১তম দিনে, পুলিশ সাদা চাদরের আড়াল থেকে তাকে জোর করে তুলে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এরপরই হাজার হাজার তরুণ ২০ জুলাইয়ের পদযাত্রায় যোগ দিতে জন্তর মন্তরে ভিড় জমায়।

লাদাখের এই শিক্ষাবিদ দেখিয়েছেন, ভারতের প্রান্তিক অঞ্চলও জাতীয় রাজধানীর সঙ্গে কথা বলতে পারে। তিনি অনশনের কষ্ট বেছে নিয়ে কোটি তরুণের শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিকে রূপ দিয়েছেন।

সরকারের কৌশল ও কংগ্রেসের চাপ

বিশ্লেষকদের ধারণা, কংগ্রেস নেতাদের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের বাইরে ধর্নার অনুমতি দিয়ে সরকার হয়তো জন্তর মন্তরের প্রতিবাদ ও পুলিশি বর্বরতার খবর থেকে মনোযোগ সরাতে চেয়েছে। কিছুক্ষণের জন্য তা কাজও করতে পারে।

যদিও কংগ্রেস নেতা পবন খেরা শেষ পর্যন্ত জন্তর মন্তরে গিয়ে সংহতি জানিয়েছেন, কিন্তু রাহুল গান্ধী সেখানে যাননি। তিনি নিজে ‘ছাত্রোঁ কি গুঞ্জ’ নামে আরেকটি যুব কর্মসূচি চালাচ্ছেন। সরকার সম্ভবত চায় না, তরুণদের সমর্থন পুরোপুরি সিজেপি কেড়ে নিক।

তবে দীর্ঘমেয়াদে, ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়লে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেসই লাভবান হতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সরকার কতটা ক্ষয়ক্ষতি সামলাতে পারে।

শক্তিশালী সরকার কি চাপে নরম হবে?

সরকারের ভেতরে একটি ধারণা আছে—‘শক্তিশালী’ সরকারকে চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে নেই, নইলে বিরোধীরা আরও সুযোগ পাবে। অনেকে ইউপিএ আমলের অশোক চ্যাভানের পদত্যাগের উদাহরণ টানেন, যা ডমিনো প্রভাব ফেলে একের পর এক পদত্যাগের ঘটনা ঘটিয়েছিল।

একটি বিশাল দেশ পরিচালনায় প্রয়োজনে কঠোর হওয়ার সক্ষমতা রাখতে হবে। কিন্তু যে সরকার প্রতিক্রিয়াশীল হবে বলে প্রত্যাশিত, তার কি পিছিয়ে থাকা উচিত যখন দেশের তরুণেরা বলছে তারা ‘কষ্ট পাচ্ছে’? শেষ বিচারে, কঠোরতা আর অহংকারের মধ্যে সূক্ষ্ম এক রেখা আছে।

সরকার এখন আন্দোলনকারীদের কাছে পৌঁছেছে। কিন্তু এটাই কি যথেষ্ট, নাকি শিক্ষাব্যবস্থার দীর্ঘদিনের বকেয়া সংস্কার নিয়ে সিজেপি, ওয়াংচুক, বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনার দরকার? আর বড় প্রশ্ন—এই যোগাযোগ আরও আগে কেন করা হলো না?
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222