ইসলাম ডেস্ক :: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র কালামুল্লাহ শরিফের সূরা বাকারার ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতের অনুসরণ করতে উৎসাহিত করেছেন। কী আছে এই সূরা বাকারার ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতে। আসুন জেনে নিই, সূরা বাকারার ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতের অর্থ ও বিশ্লেষণ।
هُوَ ٱلَّذِى خَلَقَ لَكُم مَّا فِى ٱلْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ ٱسْتَوَىٰٓ إِلَى ٱلسَّمَآءِ فَسَوَّٮٰهُنَّ سَبْعَ سَمَـٰوَٲتٍۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَىْءٍ عَلِيمٌ
তিনি পৃথিবীর সব কিছু তোমাদের জন্য সৃষ্টি করেছেন, (1) তারপর তিনি আকাশের দিকে মনোসংযোগ করেন (2) এবং তাকে (আকাশকে) সপ্তাকাশে (3) বিন্যস্ত করেন, তিনি সকল বিষয়ে সবিশেষ অবহিত।কী আছে সূরা বাকারার ঊনত্রিশ নম্বর আয়াতে
নিচে এ আয়াতের কিছু বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হলো-
১. এ থেকে সাব্যস্ত করা হয়েছে যে, জমিনে সৃষ্ট প্রত্যেক জিনিস মূলতঃ হালাল, যতক্ষণ না কোন জিনিসের হারাম হওয়ার কথা দলিল দিয়ে প্রমাণিত হবে। (ফাতহুল কাদির)
২. সালাফদের কেউ কেউ এর তর্জমা করেছেন, অতঃপর আসমানের দিকে আরোহণ করেন। (সহীহ বুখারী) মহান আল্লাহর আসমানের উপর আরশে আরোহণ করা এবং বিশেষ বিশেষ সময়ে নিকটের আসমানে অবতরণ করা তাঁর গুণবিশেষ। কোন অপব্যাখ্যা ছাড়াই এর উপর ঐভাবেই ঈমান আনা আমাদের উপর ওয়াজিব, যেভাবে তা কুরআন ও হাদিসে বর্ণিত হয়েছে।
৩. এ থেকে প্রথমতঃ জানা গেল যে, আসমান (আকাশ) এক অনুভূত বস্তু এবং বাস্তব জিনিস। কেবল উচ্চতা (মহাশূন্য)-কে আসমান বলে আখ্যায়িত করা হয়নি। দ্বিতীয়তঃ জানা গেল যে, আসমানের সংখ্যা হল সাত। আর হাদিস অনুযায়ী দুই আসমানের মধ্যেকার দূরত্ব হল পাঁচ শত বছরের পথ। আর জমিন সম্পর্কে ক্বুরআনে কারীমে এসেছে, {وَمِنَ الْأَرْضِ مِثْلَهُنَّ} এবং পৃথিবীও সেই পরিমাণে। (তালাক ১২ আয়াত) এ থেকে জমিনের সংখ্যাও সাত বলে জানা যায়। নবী (সাঃ)-এর হাদিস দিয়ে এ কথা আরো বলিষ্ঠ হয়। বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে এক বিঘত জমিনও আত্মসাৎ করবে, কিয়ামতের দিন সাত তবক জমিনকে তার গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। (সহীহ বুখারী ২৯৫৯নং)
উক্ত আয়াত থেকে এ কথাও জানা যায় যে, আসমানের আগে জমিন সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু সূরা নাযিআত (৩০ আয়াতে) আসমানের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, {وَالْأَرْضَ بَعْدَ ذَلِكَ دَحَاهاَ} জমিনকে এর পর বিস্তৃত করেছেন। এর ব্যাখ্যা এই করা হয়েছে যে, প্রথমে জমিনই সৃষ্টি হয়েছে, তবে পরিষ্কার ও সমতল করে বিছানো হল সৃষ্টি থেকে ভিন্ন ব্যাপার, যা আসমান সৃষ্টির পর সম্পাদিত হয়েছে। (ফাতহুল কাদির)
