টানা বৃষ্টির কারণে সরবরাহ কমে যাওয়ায় কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে কাঁচামরিচের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। উপজেলার বিভিন্ন খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে আকাশছোঁয়া এই দাম বৃদ্ধিতে মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
উপজেলার বেশ কয়েকটি কাঁচাবাজারসহ ঐতিহ্যবাহী লক্ষ্মীপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, কাঁচামরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আকস্মিক এই বাজার দর বৃদ্ধিতে ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা গেছে।
লক্ষ্মীপুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার আক্ষেপ প্রকাশ করে জানান, সবজির অনিয়ন্ত্রিত দামের কারণে তাঁদের পারিবারিক বাজেট পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। মাছ ও মাংস আগেই সাধ্যের বাইরে চলে গিয়েছিল, এখন কাঁচামরিচসহ অন্যান্য সবজিও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। নিত্যদিনের রান্নার অপরিহার্য উপাদান কাঁচামরিচ ৪০০ টাকা কেজি দরে কিনতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে।
একই বাজারে আসা অপর ক্রেতা কাজল মিয়া জানান, বাজারে এসে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে গিয়ে চরম দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়তে হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত দামের কারণে চাহিদার তুলনায় বাধ্য হয়ে অনেক কম পরিমাণে পণ্য কিনতে হচ্ছে তাঁদের।
বাজারের সবজি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম জানান, মাত্র কয়েকদিন আগেও তাঁরা প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি করেছেন। তবে টানা বৃষ্টির অজুহাতে পাইকারি বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় খুচরা পর্যায়েও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
কৃষি জমিতে পানি জমার বিষয়টি তুলে ধরে অপর ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান জানান, টানা বর্ষণের কারণে খেতেই মরিচ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে বাজারে সরবরাহ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় দাম এত দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে উপজেলার জাপরাবাদ বাজারেও। সেখানে সোহাগ নামের এক ক্রেতা জানান, তিনি ২০ টাকার কাঁচা মরিচ কিনতে চাইলে বিক্রেতা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। সর্বনিম্ন ১০০ গ্রাম মরিচ ৪০ টাকায় কিনতে বলায় তিনি শেষ পর্যন্ত না কিনেই ফিরে যান।
কাঁচাবাজারের এই উর্ধ্বমুখী পরিস্থিতি ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসিন খন্দকার জানান, নিত্যপণ্যের বাজারদর স্বাভাবিক রাখা এবং অসাধু উপায় রোধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
টিএইচএ/
