চুয়াডাঙ্গায় সেনা হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে বিএনপি নেতার মৃত্যুর অভিযোগ

by Fatih Work

চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হেফাজতে নির্যাতনের শিকার হয়ে পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান ডাবলু (৪৫) নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

রবিবার (১২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নাম উঠে আসছে সৌমিক আহমেদ অয়নের।

বিজ্ঞাপন
banner

স্থানীয় বিএনপি ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে অবস্থিত একটি ফার্মেসি থেকে শামসুজ্জামান ডাবলুকে তুলে নিয়ে যায় সেনাবাহিনীর ৩৬ এডি রেজিমেন্টের (টিটিসি আর্মি ক্যাম্প) কয়েকজন সদস্য। অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান পরিচালনার কথা বলে তাঁকে জীবননগর উপজেলা বিএনপির পার্টি অফিসে নেওয়া হয়। সেখানে জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাঁকে নির্দয়ভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় নেতাকর্মীদের দাবি, নির্যাতনের একপর্যায়ে ডাবলু গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সেনাসদস্যরা তাঁকে পুনরায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তাঁর শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। পরে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত ডাবলু দুই সন্তানের জনক।

এ ঘটনায় জীবননগর ও আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিএনপি নেতারা একে পরিকল্পিত হত্যা আখ্যা দিয়ে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। চলতি বছরের ৪ ডিসেম্বর যশোরের কেশবপুর উপজেলায় সেনাবাহিনী ও পুলিশের যৌথ অভিযানে আটক পৌর যুবদলের সদস্য উজ্জ্বল বিশ্বাসকে মারধরের পর কারাগারে পাঠানো হয়। কারা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের সময় ডাক্তারি সনদে ‘পাবলিক অ্যাসল্ট’ উল্লেখ করা হলেও পরবর্তীতে অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়।

এর আগে ২০২৫ সালের ২১ জুলাই রাজধানীর মিরপুরে যৌথ বাহিনীর হাতে আটক ছাত্রদলের সাবেক নেতা আসিফ শিকদার নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। একই বছরের ৩১ জানুয়ারি কুমিল্লায় মধ্যরাতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক চট্টগ্রাম বন্দরের এক শিপিং এজেন্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মী তৌহিদুর রহমানকেও নির্যাতনের পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত ঘোষণা করা হয়।

এ ধরনের প্রতিটি ঘটনার পর সামরিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মরক্ষার বিবৃতি প্রদান ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ক্যাম্প কমান্ডারকে প্রত্যাহারের খবর পাওয়া গেলেও জড়িত সেনাসদস্যদের বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—তা আজও অজানা থেকে গেছে।

উল্লেখ্য, নিকট অতীতে সেনাবাহিনীর কিছু সদস্য ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রকাশ্যে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করা ও কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও ঘটেছে। তবু মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার নামে চলমান এসব ন্যাক্কারজনক ঘটনায় কোনো কার্যকর পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে।

এমএআর/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222