সুখে-দুঃখে দেশের মানুষের পাশে থাকা বর্তমান সরকারের প্রধান দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই দেশের মানুষ ভোট দিয়ে বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই জনগণের পাশে থাকা, তাদের দেখভাল করা, মা-বোনদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা, সন্তানদের পড়ালেখার সুব্যবস্থা করা, অসুস্থদের যথাযথ চিকিৎসার বন্দোবস্ত করা এবং তরুণ সমাজ তথা নারী ও যুবকদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব।
রোববার (৯ আগস্ট) কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের পশ্চিম বাঁশখালী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে এই এলাকার বহু মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। আল্লাহর অশেষ রহমতে আজ আমরা ১০০ জন গরিব ও দুস্থ পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি বুঝিয়ে দিতে পেরেছি। এছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে অনেক দুস্থ মানুষকে আর্থিক সহায়তা এবং দুস্থ নারীদের মাঝে চাল বিতরণ করা হয়েছে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভোটের সময় তারা বলেছিলেন জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে কিছু সুনির্দিষ্ট ও জনকল্যাণমূলক কাজে হাত দেবেন। যার অন্যতম একটি ছিল মায়েদের ও নারীদের সহায়তার জন্য ফ্যামেলি কার্ড প্রবর্তন করা। তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসের মধ্যেই আমরা ফ্যামেলি কার্ডের পাইলট প্রজেক্টের কাজ শুরু করি এবং সেই কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। আগামী ১৬ তারিখ থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছি।
চলতি ২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারের মায়েদের হাতে ফ্যামেলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, একা মহেশখালী উপজেলাতেই ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। চার বছর ধরে এই কার্যক্রম চলমান থাকবে এবং এর মাধ্যমে আরও অনেক বেশি নারী ও পরিবার এই সুবিধার আওতাভুক্ত হবেন।
ফ্যামেলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ কৃষকদের পাশাপাশি এলাকার লবণ চাষি ভাইদের হাতেও কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। লবণ চাষিরা যাতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান ও স্বাবলম্বী হতে পারেন, সে বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে একটি ন্যায্য ও লাভজনক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। খুব শীঘ্রই লবণের সেই নির্ধারিত মূল্য ঘোষণা করা হবে, যার ফলে লবণ চাষি ভাইদের পূর্বের মতো আর আর্থিক সংকটে পড়তে হবে না।
টিএইচএ/
