দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় তা নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু করেছেন ব্যবসায়ীরা। বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে গত পাঁচ দিনে মোট ৮০ টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে মরিচের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে।
বাজারে কাঁচামরিচের হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতা ও নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর ব্যাপক আর্থিক চাপ তৈরি হয়। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দাম জনসাধারণের নাগালের মধ্যে আনতে আমদানিকারকরা দ্রুত ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির উদ্যোগ নেন।
সর্বশেষ শনিবার (৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে করে ১৫ হাজার কেজি বা ১৫ টন কাঁচামরিচ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করে। এর আগে গত সোমবার (৩ আগস্ট) প্রথম চালানে রাত ৮টার দিকে একটি ভারতীয় ট্রাকে ৯ হাজার ২০০ কেজি বা ৯ দশমিক ২ টন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় দ্বিতীয় চালানে তিনটি ট্রাকে ৪২ হাজার ২২০ কেজি বা ৪২ দশমিক ২২ টন এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি ট্রাকে ১৪ হাজার কেজি বা ১৪ টন কাঁচামরিচ আমদানি করা হয়। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দিনে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে মোট ৮০ টন কাঁচামরিচ দেশে এসেছে।
আমদানি শুরু হওয়ার সুফল হিসেবে শার্শা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচের দাম অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে। বর্তমানে স্থানীয় খুচরা বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ মাত্র পাঁচ দিন আগেও বেনাপোল বন্দরের কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গিয়েছিল। স্থানীয় বিক্রেতারা আশা করছেন, ভারত থেকে আমদানি অব্যাহত থাকলে এবং সরবরাহ আরও বাড়লে অচিরেই দাম ১০০ টাকার নিচে নেমে আসবে। বাজারে দাম কমায় ক্রেতাদের মধ্যেও দীর্ঘ স্বস্তি ফিরে এসেছে।
মরিচ আমদানিকারক রফিকুল ইসলাম জানান, ভারত থেকে প্রতি টন কাঁচামরিচ ৩০৫ মার্কিন ডলারে আমদানি করা হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সব মিলিয়ে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ আমদানিতে খরচ পড়ছে প্রায় ১৩৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা খুব সামান্য লাভে বাজারে কাঁচামরিচ সরবরাহ করছেন। তবে কাস্টমসের বিভিন্ন দাপ্তরিক জটিলতা এবং পণ্য খালাসে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত রাজস্ব ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ বহন করতে হচ্ছে, যা আমদানিকারকদের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি করার পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে।
ভারত থেকে আমদানিকৃত কাঁচামরিচের প্রতিটি চালান বন্দরে পৌঁছানোর পরপরই দ্রুত কাস্টমস ও বন্দরের সকল দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দেশের বিভিন্ন পাইকারি বাজারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে দ্রুত সরবরাহ বাড়ার কারণে দেশের বাজারে দাম দ্রুত কমে আসছে। এই পুরো আমদানি প্রক্রিয়ায় চালানটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে শিমু এন্টারপ্রাইজ। এছাড়া বন্দর থেকে পণ্য খালাস ও কাস্টমসের কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শিমু শিপিং লাইনস ও রয়েল এন্টারপ্রাইজ।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন এই বিষয়ে জানান, কাঁচামরিচের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক বন্দরে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হচ্ছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিয়ে দ্রুত পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে যাতে বাজারে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
টিএইচএ/
