১১ দলীয় জোটে আসন বণ্টন নিয়ে চরমোনাই পীরের দলের সঙ্গে তীব্র বিরোধ, ৮০ আসনের দাবিতে বৈঠক ত্যাগের ঘটনা এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে চরমোনাইপন্থীদের কটূক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
খালিদ সাইফুল্লাহ তার পোস্টে দাবি করেন, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার প্রারম্ভেই বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে জোটে অন্তর্ভুক্ত করতে চরমোনাইর পক্ষ থেকে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এমনকি জোটের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ খোদ আমিরে মজলিসের কাছে গিয়ে জোটে যোগ দেওয়ার জন্য প্রবল পীড়াপিড়ি করেন। পরবর্তীতে দলীয় শূরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১১ দলীয় জোটে শরিক হলেও পরবর্তীতে আসন বণ্টনের আলোচনায় চরমোনাইর পক্ষ থেকে চরম অহংকার ও অযৌক্তিক মনোভাব প্রদর্শন করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পোস্টে দাবি করা হয়, আসন বণ্টনের সময় চরমোনাই ও জামায়াতে ইসলামী নিজেদের মধ্যে সিংহভাগ আসন ভাগ করে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। জোটের একটি বৈঠকে চরমোনাইর একজন শীর্ষ নেতা জামায়াতের জন্য ১৫০ এবং চরমোনাইর জন্য ১২০টি আসনের দাবি তোলেন। অর্থাৎ ২৭০টি আসন নিজেদের মধ্যে রেখে বাকি দলগুলোর জন্য মাত্র ৩০টি আসন বরাদ্দের কথা বলা হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে মাত্র ১৫টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল। খালিদ সাইফুল্লাহ একে ‘অহংকারের চূড়ান্ত সীমা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বিভিন্ন মাঠপর্যায়ের জরিপ ও দলীয় সক্ষমতা মূল্যায়ন করে চরমোনাইকে কোনোভাবেই ৫০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি ছিল না বলে জানান তিনি। এই দরকষাকষির একপর্যায়ে চরমোনাইয়ের পীর সাহেব ‘৮০ আসন পেলে জোটে থাকব, অন্যথায় নয়’—এমন অটল অবস্থান নিয়ে মাঝপথেই বৈঠক ছেড়ে চলে যান। অন্যান্য দলীয় নেতারা সে সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাকে ৫০ আসনে রাজি হয়ে ঐক্য টিকিয়ে রাখার অনুরোধ জানালেও চরমোনাই তাদের অবস্থানে অনড় থাকে।
পোস্টে আরও বলা হয়, চরমোনাই জোট ত্যাগ করার পর বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমিরে মজলিস মাওলানা মামুনুল হক নিজে চরমোনাইর কার্যালয়ে গিয়ে সুসম্পর্ক বজায় রাখার অনুরোধ করেন। কিন্তু চরমোনাইয়ের শীর্ষ নেতারা ভালো ব্যবহার ও বন্ধুত্বের কথা বললেও পরবর্তীতে তাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা মাওলানা মামুনুল হককে নিয়ে নানা কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও অবমাননাকর অপপ্রচার শুরু করে। চরমোনাইপন্থীরা তাকে জামায়াতের দালাল, আমেরিকার দালাল এবং আর্থিক লেনদেনের মতো ভিত্তিহীন অভিযোগে অভিযুক্ত করে গালাগালি করেছে বলে দাবি করেন সাবেক এই ছাত্রনেতা।
দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে চরমোনাইর রাজনৈতিক আচরণ ও মানসিকতার কড়া সমালোচনা করে মোল্লা খালিদ সাইফুল্লাহ বলেন, চরমোনাইর মাঝে কিছু ভালো ব্যক্তিত্ব থাকলেও সামগ্রিকভাবে তাদের তৃণমূল ও কর্মী বাহিনীর সঙ্গে রাজনৈতিক জোটবদ্ধ হয়ে পথ চলা অসম্ভব। যুক্তি হারিয়ে ফেলার কারণেই তারা এ ধরনের অশালীন আচরণের পথ বেছে নেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
টিএইচএ/
