সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে পবিত্র মক্কা মুকাররমায় স্বাক্ষরিত ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনটি এই চুক্তিকে মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট তিন দেশের সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানিয়েছে।
রোববার (৯ আগস্ট) এক যৌথ বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি শাইখুল হাদিস মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক ও মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী এই চুক্তিকে সাধুবাদ জানান এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতৃত্বকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় উল্লেখ করেন যে, মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্রে যখন নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি, তখন পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মতো প্রভাবশালী মুসলিম দেশগুলোর পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এ ধরনের অংশীদারত্ব মুসলিম দেশগুলোর ঐক্য, সংহতি ও সম্মিলিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পথকে আরও সুগম করবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
এর আগে গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কা মুকাররমায় সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের উপস্থিতিতে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ শীর্ষক এই ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিটির অন্যতম প্রধান মূলনীতি হলো তিন দেশের যেকোনো একটি রাষ্ট্রের ওপর সশস্ত্র হামলাকে সামগ্রিকভাবে তিন দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা এবং পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানো।
জমিয়তের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ মনে করেন, মুসলিম বিশ্বের প্রতিটি দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রতি পারস্পরিক সম্মান প্রদর্শনপূর্বক প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি ও কূটনীতিসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত করা অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর মধ্যকার বিভেদ ও দূরত্ব ঘুচিয়ে বৃহত্তর ঐক্য ও সংহতি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
তারা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের এই ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তি কেবল সংশ্লিষ্ট অঞ্চলেই নয়, বরং পুরো মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে। সেইসঙ্গে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে অন্যান্য মুসলিম দেশের মধ্যেও পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তারা বিশ্বাস করেন। পরিশেষে, চুক্তিটির পূর্ণাঙ্গ ও সফল বাস্তবায়ন কামনা করে তিন দেশের সরকারের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও অভিনন্দন জানান জমিয়তের শীর্ষ এই দুই নেতা।
টিএইচএ/
