এমরান হোসেন, (জামালপুর প্রতিনিধি)
মালপুরে স্ত্রীকে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড এবং দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের মামলায় আরেকজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই আসামিকেই পাঁচ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে জামালপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক আব্দুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামের মজর উদ্দিনের ছেলে আলাল শেখ। অপরদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি একই উপজেলার বাঘার চর গ্রামের জসিজল হকের ছেলে রাজিব হোসেন।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক জানান, ২০০৮ সালের ২৬ মে দক্ষিণ রহিমপুর গ্রামে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী নাইফুল বেগমকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন আলাল শেখ। পরে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল খালেক বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমে প্রধান আসামি আলাল শেখ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত তার অনুপস্থিতিতে আলাল শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।
অন্যদিকে, ২০১৫ সালের ৭ জুন রাত দেড়টার দিকে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাঘার চরে এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন প্রতিবেশী রাজিব হোসেন। ভুক্তভোগীর চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে এলে রাজিবকে হাতেনাতে আটক করা হলেও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি পালিয়ে যান। পরদিন ভুক্তভোগী বাদী হয়ে দেওয়ানগঞ্জ থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রাজিব হোসেনের উপস্থিতিতে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের রায় দেন।
রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফজলুল হক বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সন্তোষ প্রকাশ করেছে।
এনআর/
