দেশবিরোধী চক্রান্ত ও বিভাজনের রাজনীতি প্রতিহত করতে উলামা-মাশায়েখদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন শায়খুল হাদীস পরিষদের জাতীয় কনফারেন্সে বক্তারা। শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) শাহবাগের জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে “হেফাজতের চার রাহবার—আল্লামা শাহ আহমদ শফী রহ., আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী রহ., আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী রহ., আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদী রহ.: নেতৃত্ব, ত্যাগ ও সংগ্রাম” শীর্ষক এই কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
শায়খুল হাদীস পরিষদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান জুনাইদ, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক ও আল আবিদ শাকিরের সঞ্চালনায় সম্মেলন শুরু হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী। প্রধান অতিথি ছিলেন আমীরে হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, চার রাহবারের আদর্শ ও ত্যাগকে অনুসরণ করতে পারলেই উম্মাহ সিরাতে মুস্তাকিমের উপর অটল থাকতে পারবে। তিনি নামাজের পর নিয়মিত সিরাতে মুস্তাকিমের জন্য দোয়া করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কওমী আলেমদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা মুসলিম সমাজকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা। তিনি এ চক্রান্ত ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবেলার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী দেশের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ওপর জোর দেন।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান সংগীত শিক্ষক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানান। তিনি আলেমদের মসজিদ থেকে বের করে দেওয়ার ঘোষণার নিন্দা জানিয়ে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, “চার রাহবার শুধু ব্যক্তি নন; তাঁরা ছিলেন দিশারী, সংগ্রামী নাবিক, আপসহীন সত্যের অগ্নিশিখা। তাঁদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের সামনে এগোতে হবে।”
কনফারেন্সে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা জসিমউদ্দীন, মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, ড. আহমদ আব্দুল কাদের, মাওলানা ইউনুছ আহমদ, মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মাও. সাখাওয়াত হোসাইন রাজি, রাশেদ খান, আখতার হুসাইন, মাওলানা ইসমাইল নুরপুরী, মাওলানা মহিউদ্দিন রাব্বানী, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব, মাও. আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা নাসিরুদ্দীন মুনিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও দ্বীনি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের অসংখ্য আলেম, মাদরাসা মুহতামিম এবং সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা চার রাহবারের জীবন ও কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে মুসলিম সমাজের ঐক্য রক্ষার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
হাআমা/
