বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদায় সংবর্ধনা বললেই সাধারণত চোখে ভেসে ওঠে নাচ, গান ও রঙ-বেরঙের সাংস্কৃতিক আয়োজন। তবে সেই প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন আঙ্গিকে, ধর্মীয় বিশ্বাস ও ইসলামী অনুশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা সমাপনী অনুষ্ঠান আয়োজন করেছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের (২২ ব্যাচ) সাধারণ শিক্ষার্থীদের একাংশ। ‘মুমিনরাই বিজয়ী’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ‘আল ইনতিসার-২২’ শিরোনামে ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে দুই দিনব্যাপী এ ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।
আয়োজকরা জানান, ক্যাম্পাস জীবনের ইতি টানতে নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও নৈতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উদ্যাপনের একটি বিকল্প পথ তৈরি করতেই এ উদ্যোগ। ২০১৭ সালে ১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের (১৭ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের হাত ধরে ‘আল বিদা-১৭’ নামে এই ধারার সূচনা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮ ব্যাচের ‘সবর-১৮’, ১৯ ব্যাচের ‘মুসাফির-১৯’, ২০ ব্যাচের ‘আল ইত্তিহাদ-২০’ এবং ২১ ব্যাচের ‘আল ইতিসাম-২১’-এর ধারাবাহিকতায় এবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘আল ইনতিসার-২২’।
এবারের দুই দিনব্যাপী আয়োজনে ইসলামী ইলম, আমল, আখলাক, আদর্শ মুসলিম শিক্ষার্থীর পরিচয় এবং কর্মজীবনে সততা বজায় রাখার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা থাকছে। পাশাপাশি কোরআন তিলাওয়াত, নাশিদ পরিবেশনা এবং ফিলিস্তিন, উইঘুর ও কাশ্মীরসহ বিশ্বজুড়ে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার আয়োজন রাখা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসক ও লেখক ডা. শামসুল আরেফীন শক্তি। এ ছাড়া নাশিদ পরিবেশন করেন কলরবের জনপ্রিয়শিল্পী আবু সুফিয়ান ও তাঁর দল। দ্বিতীয় দিনের সকালে দড়ি টানা ও হাঁড়ি ভাঙার মতো ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলার পাশাপাশি সন্ধ্যায় মূল আলোচনা পর্বে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব ফকীহ আব্দুল মালেক, ডা. নাবিল ও ডা. নোবেলের।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সালাহউদ্দিন এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় বহুধর্মীয় সহাবস্থান ও বৈচিত্র্যে বিশ্বাসী। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা মেনে শিক্ষার্থীরা যেকোনো ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আয়োজন করতে পারে। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও নৈতিক এ ধরনের উদ্যোগকে আমরা সবসময় স্বাগত জানাই।’
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুপ্রেরণায় ইতোমধ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও (রুয়েট) ‘সালসাবিল ২.০’ নামে অনুরূপ কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে। প্রচলিত আড়ম্বরের বাইরে ধর্মীয় অনুশাসন ও নৈতিক আদর্শ অক্ষুণ্ন রেখে পরবর্তী জীবনে প্রবেশ করার এই নতুন ধারা শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক সাড়া ফেলছে।
