সাভারের বিরুলিয়ার কালিয়াকৈরে তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের পর প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ও কওমি শিক্ষাবোর্ড বেফাকের শীর্ষস্থানীয় আলেম নেতারা। রোববার (২৫ অক্টোবর) মাদ্রাসাটি পরিদর্শনকালে তাঁরা ঘটনার প্রকৃত তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
মাদ্রাসা পরিদর্শনকারী নেতাদের মধ্যে ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা সাজিদুর রহমান, কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা নাজমুল হাসান, মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানীসহ হেফাজত ও জমিয়তের শীর্ষস্থানীয় আলেম নেতারা।
পরিদর্শন শেষে বেফাকের মহাসচিব মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, দুই দিন আগে মাদ্রাসাটির ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘটনার বাস্তব চিত্র স্বচক্ষে দেখতে এবং তা গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশবাসী ও প্রশাসনের সামনে তুলে ধরতেই তাঁরা এখানে এসেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কখনোই কোনো অন্যায়কারীর পক্ষাবলম্বনের জন্য এখানে আসিনি। আমাদের স্পষ্ট কথা, অন্যায়কারীর অন্যায় যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হলে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে আমরা ভূমিকা পালন করব।’
মাওলানা মাহফুজুল হক প্রশ্ন তুলে বলেন, কোনো একজন মানুষকে অপরাধী সাব্যস্ত করার জন্য দেশে আইনি প্রক্রিয়া রয়েছে কি না, তা জাতির বিবেক ও গণমাধ্যমের কাছে জানতে চান তাঁরা। তাঁর ভাষ্য, অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে সমাজের সামনে উপস্থাপন করা গ্রহণযোগ্য নয়।
মাদ্রাসাটির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা আবদুল বারির প্রসঙ্গ টেনে বেফাক মহাসচিব বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে যথাযথ নিয়মে তদন্ত করতে হবে। তদন্তে তিনি দোষী সাব্যস্ত হলে তাঁর শাস্তির ব্যবস্থা করতে তাঁরা সহযোগিতা করবেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অপরাধ প্রমাণিত হলে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট অন্যদের ক্ষতিগ্রস্ত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। মাদ্রাসাটির কোনো সমস্যা থাকলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাবোর্ড, অভিজ্ঞ আলেম ও স্থানীয় প্রশাসনকে জানিয়ে আইনানুগভাবে সমাধানের সুযোগ ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মাদ্রাসায় হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ তুলে মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন, পরিদর্শনে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত আসবাবপত্র এবং পরিচালকের পরিবারের ব্যক্তিগত মালামাল তছনছ ও লুটপাটের চিত্র দেখেছেন। তাঁর দাবি, মাদ্রাসাটিতে হামলা চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সম্পদ লুট করা হয়েছে, যার মূল্য কোটি টাকার বেশি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো ব্যক্তি অপরাধী হলেও তাঁর কারণে একটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কেন ক্ষতিগ্রস্ত হবেন? অভিযোগের তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একটি প্রতিষ্ঠানের ওপর এ ধরনের হামলা চালানোর যৌক্তিকতা কী, সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
আলেম নেতারা বলেন, কোনো অভিযোগ থাকলে তা যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে। আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
তবে হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ঘটনার পেছনের কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বা অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা থেকে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র জানা যাবে।
উল্লেখ্য, বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়ন আকরাইন এলাকায় তোহফাতুল জান্নাত মহিলা মাদরাসার এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগ মাদরাসায় হামলা ও ভাঙচুর স্থানীয় কিছু লোক। তবে অভিযুক্ত ওই মাদরাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল বারী হামলা থেকে বাঁচতে নিরাপদে সরে যান। কিন্তু ধর্ষণের অভিযোগে তার স্ত্রীকে পুলিশে সোপর্দ করে হামলাকারীরা।
