পরিবেশ মেলা ও জাতীয় বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

by Abid vs36

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা: ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা পৌঁছে দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই দুই আয়োজনের আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন তিনি।

বিজ্ঞাপন
banner

পবিত্র কোরআনসহ বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। পরবর্তীতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন খাতে বর্তমান সরকারের সাফল্য নিয়ে তৈরিকৃত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতীয় পরিবেশ পদক, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার প্রদান করেন। এছাড়া সামাজিক বনায়নে অংশ নেওয়া স্থানীয় উপকারভোগীদের হাতে লভ্যাংশের চেক হস্তান্তর করেন তিনি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. সাইমুম পারভেজ এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের তিনটি চারা রোপণ করেন। এরপর তিনি পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। পরিবেশ সংরক্ষণ, বনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়াতেই এই বিশাল মেলার আয়োজন করা হয়েছে।

রাজধানীতে মাসব্যাপী এই জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিনব্যাপী, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিনব্যাপী এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শেরেবাংলা নগরের জাতীয় বৃক্ষমেলায় মোট ১২০টি বিভিন্ন ক্যাটাগরির স্টল অংশ নিয়েছে।

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে দেশজুড়ে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। এই লক্ষ্য অর্জনে জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ এবং ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন নিশ্চিত করা হবে। এই উদ্যোগের ফলে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশে বৃক্ষরোপণকে প্রথম রাষ্ট্রীয় আন্দোলনে রূপ দিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালে দেশের প্রথম জাতীয় বননীতি প্রণয়ন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা করে সামাজিক বনায়নে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। বর্তমান সরকার সেই ঐতিহ্য বজায় রেখে প্রযুক্তিভিত্তিক ও টেকসই বনায়ন ব্যবস্থাপনার দিকে জোর দিচ্ছে। এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির প্রথম সূচনা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222