প্রথম ওয়ানডেতে ব্যাটিং ধসে জিম্বাবুয়ের কাছে হারল বাংলাদেশ

by Abid vs36

গতি তারকা নাহিদ রানার আগুনে বোলিংয়ে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে গুটিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৪২ রানের লক্ষ্য সাধারণত সহজ ও স্বস্তির হওয়ার কথা। কিন্তু হারারে স্পোর্টস ক্লাবের পেস-সহায়ক উইকেটে সেই ছোট লক্ষ্যই শেষ পর্যন্ত পাহাড় হয়ে দাঁড়াল বাংলাদেশের সামনে। চরম ব্যাটিং ধসের শিকার হয়ে ৩৩.১ ওভারে মাত্র ১১৬ রানে অলআউট হয়ে গেছে সফরকারীরা। ফলে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ২৫ রানের হতাশাজনক হারে মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।

এর আগে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। শুরুতে জিম্বাবুয়ে ৩৬ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়লেও মিরাজের দুর্দান্ত সরাসরি থ্রোতে ওপেনার বেন কারান রানআউট হতেই ম্যাচের মোড় বদলে যায়। এরপর পেসার তাসকিন আহমেদ পরপর আঘাত হানেন জিম্বাবুয়ে শিবিরে। অভিজ্ঞ ক্রেইগ আরভিনকে শূন্য রানে ফিরিয়ে স্বাগতিকদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেন তিনি। এরপর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজের হাতে তুলে নেন নাহিদ রানা। অসাধারণ গতি, বাউন্স ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের জাদুতে জিম্বাবুয়ের মিডল ও লোয়ার অর্ডার একাই গুঁড়িয়ে দেন এই ডানহাতি পেসার।

বিজ্ঞাপন
banner

সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে, ইনোসেন্ট কাইয়া, ব্র্যাড ইভান্স ও রিচার্ড এনগারাভাকে সাজঘরে ফিরিয়ে ১০ ওভারে ২টি মেডেনসহ মাত্র ২১ রান খরচায় ৬টি উইকেট শিকার করেন নাহিদ রানা। এটি তাঁর ক্যারিয়ার সেরা বোলিং তো বটেই, একই সঙ্গে ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা বোলিং প্রদর্শনী। নাহিদের এই তাণ্ডবে জিম্বাবুয়ে একসময় ৭০ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে একশর নিচে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল। তবে নবম উইকেটে নিউম্যান নিয়ামহুরি ও রিচার্ড এনগারাভার ৬৩ রানের লড়াকু জুটি স্বাগতিকদের সম্মানজনক পুঁজি এনে দেয়। নিয়ামহুরি ৩৩ এবং এনগারাভা ২৭ রান করেন। শেষ পর্যন্ত ৩৬.৪ ওভারে ১৪১ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে।

১৪২ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দলীয় ১৭ রানেই সাজঘরে ফিরে যান শীর্ষ তিন টপ অর্ডার ব্যাটার। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ৮, নাজমুল হোসেন শান্ত ৩ এবং সৌম্য সরকার ৬ রান করে বিদায় নেন। জিম্বাবুয়ের পেসাররা নতুন বলে উইকেটের সুবিধা নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করে ফেলেন। চতুর্থ উইকেটে তাওহিদ হৃদয় ও উইকেটরক্ষক নুরুল হাসান সোহান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। এই দুজনের জুটিতে বাংলাদেশের স্কোর ৬৬ রান পর্যন্ত পৌঁছায়। কিন্তু ব্যক্তিগত ২৫ রান করে হৃদয় ফিরতেই ইনিংসে আবারও ধস নামে।

এরপর দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ রান করে নুরুল হাসান সোহানও আউট হলে বাংলাদেশের জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। অধিনায়ক মিরাজ ১০, রিশাদ ৩, তাসকিন ৫ ও মোস্তাফিজুর রহমান ৫ রান করে আউট হলে ৩৩.১ ওভারে ১১৬ রানেই থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন নাহিদ রানা। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স ৩টি করে উইকেট নেন। এছাড়া ব্লেসিং মুজারাবানি ও নিউম্যান নিয়ামহুরি শিকার করেন ২টি করে উইকেট। চার পেসারের শৃঙ্খলিত ও নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই এই ছোট পুঁজি রক্ষা করে স্মরণীয় জয় তুলে নেয় স্বাগতিকেরা।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222