যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মুসলিম রাজনীতিক সিনেটর হওয়ার পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছেন। মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাইমারিতে (প্রার্থী বাছাই নির্বাচন) জয়ী হয়েছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত প্রগতিশীল স্বাস্থ্যকর্মী আবদুল আল-সাইয়েদ। ইসরায়েলপন্থী গোষ্ঠীগুলোর প্রায় ৬ কোটি ডলারেরও বেশি নির্বাচনী প্রচারণার খরচ ও তীব্র বাধাকে পেছনে ফেলে আল-সাইয়েদ এ ঐতিহাসিক মনোনয়ন লাভ করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনী ফলাফলকে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইসরায়েলপন্থী লবিং গ্রুপ ‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ বা এআইপিএসির জন্য একটি মস্ত বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আবদুল আল-সাইয়েদকে হারাতে এ গোষ্ঠীটি সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিল এবং তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন কংগ্রেস সদস্য হেইলি স্টিভেন্সের পক্ষে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢেলেছিল। তা সত্ত্বেও ভোটারদের রায়ে শেষ পর্যন্ত জয় পান আল-সাইয়েদ।
আসন্ন নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্রেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ সাবেক রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন। নির্বাচনে যে কয়টি আসনে সিনেট নিয়ন্ত্রণের জন্য তীব্র লড়াই হবে, তার মধ্যে মিশিগানের এ আসনটিকে অন্যতম ধরা হচ্ছে। এ আসনের ফলাফলই নির্ধারণ করবে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে।
২০২৪ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষে ভোট দেওয়া দোদুল্যমান মিশিগান অঙ্গরাজ্যের এ ফলাফল মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ডেমোক্রেটদের নীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। নির্বাচনী প্রচারণায় আল-সাইয়েদ ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেন এবং একে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার মতে, যেসব যুদ্ধে শুধু বাইরের দেশের স্বার্থসিদ্ধি হয়, সেই সামরিক সহায়তা বন্ধ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানে অর্থ বিনিয়োগ করা উচিত।
কোনো প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি ওকালতি না করা নিরপেক্ষ সংগঠন ‘আরব আমেরিকান ইনস্টিটিউট’-এর নির্বাহী পরিচালক মায়া বেরি আল-সাইয়েদের এ জয়কে একটি বিরাট ঘটনা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি আল-জাজিরাকে বলেন, ভোটাররা এমন সব নেতিবাচক বিজ্ঞাপনের বন্যায় পা দেননি, যেখানে কোনো নীতি বা জনকল্যাণের কথা ছিল না, বরং শুধু একজন আরব-আমেরিকান মুসলিমকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগত আক্রমণ চালানো হয়েছিল। মিশিগানের মানুষ এই নোংরা রাজনীতি মুখ বুজে সহ্য করবে না, তা তারা প্রমাণ করে দিয়েছে। মিসরীয় বংশোদ্ভূত আবদুল আল-সাইয়েদ নভেম্বরের মূল নির্বাচনে জয়ী হলে তিনি হবেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম সিনেটর।
টিএইচএ/
