দক্ষিণ কোরিয়ায় ভয়াবহ দাবদাহে ১৬ জনের মৃত্যু

by Abid vs36

তীব্র দাবদাহে পুড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সৃষ্ট নানা অসুস্থতায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া দেশজুড়ে হিটস্ট্রোকসহ গরজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন দুই হাজারের বেশি মানুষ। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় রাজধানী সিউলে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ স্তরের তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মে থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে মোট ২ হাজার ২৫ জন মানুষ গরুমুখী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে গত সপ্তাহে ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪২.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সিউলসহ বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার পারদ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে এবং এই দাবদাহ মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিজ্ঞাপন
banner

সংবাদ সংস্থা ইয়োনহাপের তথ্যানুযায়ী, সিউলের গাংনাম, সংপাসহ ১১টি অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপপ্রবাহের এই বিশেষ সতর্কতা কার্যকর করা হয়েছে। গত ১ জুন এই সতর্কবার্তা চালুর পর এবারই প্রথম তা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করা হলো। অনুভূত তাপমাত্রা যখন টানা দুই দিন ধরে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকে এবং দৈনিক সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, কেবল তখনই এই সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউল মেট্রোপলিটন সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তাপপ্রবাহের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে রাস্তায় পানি ছিটানো এবং বয়স্ক ও কম আয়ের মানুষদের সুরক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া কমিউনিটি সেন্টার ও প্রবীণ নিবাসসহ প্রায় চার হাজার স্থানকে শীতলীকরণ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নাগরিকদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়া, প্রচুর পানি পান করা এবং ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ার পাশাপাশি উত্তর কোরিয়াও তীব্র দাবদাহের মুখোমুখি হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, তীব্র গরমে শত শত মানুষ দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় ওনসান কালমা সমুদ্র সৈকতে ভিড় জমিয়েছেন। কঠোর তথ্য নিয়ন্ত্রণ ও ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন থাকা বিশ্বের অন্যতম বিচ্ছিন্ন এই দেশের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের এমন বিরল দৃশ্য আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। ১৯৫০-৫৩ সালের কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে দুই দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় থাকলেও প্রকৃতি ও জলবায়ু পরিবর্তনের এই তীব্র সংকট উভয় পাশেই সমানভাবে আঘাত হানছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222