পাকিস্তান থেকে একমাসে আফগান শরণার্থী এসেছে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার

by Abid vs36

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিআর) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে পাকিস্তান থেকে প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার আফগান শরণার্থী আফগানিস্তানে ফিরে গেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান থেকে আফগান অভিবাসীদের জোরপূর্বক নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া আরও তীব্র হয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফিরে আসা মানুষদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে তারা সীমান্তে তৎপর রয়েছেন। ইউএনএইচসিআরের উপ-মুখপাত্র ফারমার্স বারজিন জানান, গত এক মাসে ইরান ও পাকিস্তান থেকে ১ লাখ ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ আফগানিস্তানে ফিরেছে। বেশিরভাগ প্রত্যাবাসীর জন্যই অবিলম্বে নগদ অর্থ সহায়তা, মাথা গোঁজার ঠাঁই বা বাসস্থান এবং জীবিকার সুযোগ প্রয়োজন। এসব মানুষকে সহযোগিতা করতে অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি ইউএনএইচসিআরের টিমও আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছে।

বিজ্ঞাপন
banner

এদিকে আফগানিস্তানের অভিবাসী সমস্যা বিষয়ক উচ্চ কমিশন জানিয়েছে, পাকিস্তান এক দিনেই ১ হাজার ৮০০ জনের বেশি আফগান নাগরিককে ফেরত পাঠিয়েছে। কমিশনের তথ্যমতে, এর মধ্যে নানকহার প্রদেশের তরমথর (তোরখাম) সীমান্ত দিয়ে ১ হাজার ৬০০ জনের বেশি মানুষ প্রবেশ করেছে এবং বাকিরা কান্দাহার প্রদেশের স্পিন বোলডাক সীমান্ত দিয়ে ফিরেছে। ইসলামিক আমিরাতের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরত জানান, অভিবাসী সমস্যা বিষয়ক উচ্চ কমিশনের রেজিস্ট্রেশন ও ভেরিফিকেশন কমিটি ৩৬৩টি পরিবারভুক্ত ১ হাজার ৯৫০ জন ব্যক্তিকে নিবন্ধন করেছে। পাশাপাশি ট্রান্সপোর্ট কমিটি ৩১৮টি পরিবারকে তাদের নিজ নিজ এলাকায় পৌঁছে দিয়েছে।

অন্যদিকে অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করা কর্মীরা বলছেন, এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা মেনে এবং পরিবারগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি—বিশেষ করে নারী, শিশু, প্রবীণ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর বিষয়টিকে সর্বোচ্চ বিবেচনায় রেখে পরিচালনা করা উচিত। তারা জোর দিয়ে বলেছেন, পরিস্থিতি যেন আরও বড় কোনো মানবিক সংকটে রূপ নিতে না পারে, সেজন্য আফগান ও পাকিস্তানি সরকার, জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থাকে একত্রে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে।

অভিবাসী অধিকার কর্মী মোহাম্মদ জামাল মুসলিম বলেন, “পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার পাশাপাশি চরম গরমের মধ্যে এভাবে গণহারে মানুষ ফেরত পাঠিয়ে আবারও প্রমাণ করেছে যে তারা আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করছে।” আরেক অধিকার কর্মী আব্দুল রাজ্জাক আদিল সতর্ক করে বলেছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না নিয়ে এবং আফগানিস্তানের বর্তমান কঠিন পরিস্থিতি বিবেচনায় না রেখে এ ধরনের বড়ো আকারে জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন মানবিক সংকটকে আরও ঘনীভূত করতে পারে এবং নারী, শিশুদের চরম ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

জাতিসংঘের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ আরও প্রায় ১৫ লাখ মানুষ আফগানিস্তানে ফিরে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222