বাংলাদেশ আর কখনো নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

by Abid vs36

বাংলাদেশ আর কখনো কোনো দেশের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা নির্ভরশীল রাষ্ট্র হবে না বলে দৃঢ় মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান এবং বড় অর্জন হলো দেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতিকে পূর্ণাঙ্গভাবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। পরিবর্তিত বৈশ্বিক বাস্তবতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েই বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর এক বিশেষ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিজ্ঞাপন
banner

দুই বছর আগের সেই দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানকালেও শিশু-কিশোরদের নির্মম প্রাণহানি, সরকারের নৃশংস দমন-পীড়ন এবং দেশব্যাপী ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা তারা অত্যন্ত গভীর উদ্বেগের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ও তথ্যের প্রবাহ এভাবে সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়নি। স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে এটি ছিল অন্যতম নৃশংস ও অন্ধকারতম সময়। সে সময় জাতিসংঘের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে বাংলাদেশের চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের চিত্র জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে সহিংসতা কমাতে এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের গতি ত্বরান্বিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ড. খলিলুর রহমান জানান, সে সময় প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সরকারের সামগ্রিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখা এবং একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল রাজনৈতিক রূপান্তর ঘটানো—এই তিনটি বড় চ্যালেঞ্জ তারা সাফল্যের সঙ্গেই মোকাবিলা করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পর্যবেক্ষকরাও সাম্প্রতিক নির্বাচনকে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য বলে মূল্যায়ন করেছেন, যার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে।

কূটনৈতিক সাফল্য ও পররাষ্ট্রনীতির রূপরেখা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যে তার হারানো অবস্থান ফিরে পেতে বসেছিল, তা এখন সফলভাবে পুনর্দখল করছে।’ তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি বা মন্ত্রই হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’। বাংলাদেশ এখন থেকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে অন্য কোনো দেশের ওপর নির্ভরশীল হয়ে থাকবে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচনে বাংলাদেশের গৌরবোজ্জ্বল বিজয়ের কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নির্দেশনা ও সঠিক পদক্ষেপের ফলেই এই ‘অসম্ভব মিশন’ জয় করা সম্ভব হয়েছে। এটি মূলত নিউইয়র্কে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর কূটনীতিকদের সমন্বিত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফসল।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের তরুণ প্রজন্মের প্রতি গভীর আস্থা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, ‘আমাদের তরুণেরা এক ভয়াবহ দানবের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। এখন অপরিসীম ভালোবাসা, মেধা ও সর্বোচ্চ দায়িত্ববোধ দিয়ে এই সোনার বাংলাদেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়ার মূল দায়িত্ব আমাদের সবার।’

টিএইচএ/

এ জাতীয় আরো সংবাদ

প্রকাশক: আবু সায়েম খালেদ
পরিচালক: এইচ. এম. মুহিউদ্দিন খান
আসকান টাওয়ার, ৬ষ্ঠ তলা, ১৭৪ ধোলাইপাড়
যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-১২০৪
ইমেইল: info@36news24.com
ফোন: 01401 400222