আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের উত্তরপ্রদেশের মুজাফফরনগরে সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগ তুলে ঐতিহাসিক একটি দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চার দিন ধরে ধারাবাহিক বুলডোজার অভিযান চালিয়েছে জেলা প্রশাসন। এতে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মাদ্রাসাটির বড় একটি অংশ। এ প্রশাসনিক পদক্ষেপের ফলে প্রতিষ্ঠানটিতে অধ্যয়নরত শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে মুজাফফরনগর জেলার রতনপুরী থানার অন্তর্গত ফুলাত গ্রামের প্রাচীন ‘দারুল উলুম রহিমিয়া’ মাদ্রাসায়। স্থানীয় প্রশাসনের দাবি, মাদ্রাসা ভবনটির প্রায় ১,৩০০ বর্গগজ অংশ সরকারি খাসজমির ওপর অবৈধভাবে নির্মিত হয়েছিল। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তহসিলদার আদালত তদন্ত শেষে স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার চূড়ান্ত নির্দেশ দেন।
তবে স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায় ও মানবাধিকার কর্মীদের দাবি, এটি কেবল জমি সংক্রান্ত আইনি বিষয় নয়; বরং সংখ্যালঘু ধর্মীয় স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিহ্নিত করে কোণঠাসা করার বৈষম্যমূলক নীতিরই অংশ।
এদিকে হঠাৎ করে ঐতিহাসিক এই প্রতিষ্ঠানটি গুঁড়িয়ে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে সেখানে থাকা শত শত শিশু ও তরুণ শিক্ষার্থী। থমকে গেছে তাদের দ্বীনি ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। শিক্ষার্থীদের শিক্ষার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না করায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।
এর আগে বিভিন্ন হিন্দুত্ববাদী সংগঠন মাদ্রাসাটির বিরুদ্ধে ‘ধর্মান্তরকরণের’ ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে আসছিল। যদিও জেলা প্রশাসন দাবি করেছে, বর্তমান অভিযানটি কেবল সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া এবং এর সঙ্গে অন্য কোনো অভিযোগের সম্পর্ক নেই। তবে স্থানীয়দের মতে, কট্টরপন্থী সামাজিক চাপ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়েই তড়িঘড়ি করে এই ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে উত্তরপ্রদেশে জমি দখলের অজুহাতে মুসলিম ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসা ও ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার যে ধারা শুরু হয়েছে, মুজাফফরনগরের এ ঘটনাকে তারই ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। তথ্যসূত্র: Dainik Bhaskar, Amar Ujala, Live Hindustan
